মাসুদ রানা, খানসামা (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
দেশজুড়ে লিকুইফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডারের ভয়াবহ সংকট দেখা দিয়েছে। সরকারি নির্ধারিত মূল্য ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার যেখানে ১ হাজার ২৫৩ টাকা, সেখানে বর্তমানে ১ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত দামেও মিলছে না গ্যাস।
দিনাজপুরের খানসামাসহ বিভিন্ন স্থানে এ সংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) এমন চিত্র দেখা গেছে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে।
স্থানীয় ভোক্তাদের অভিযোগ, গত এক সপ্তাহ ধরে অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রি হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো নজরদারি বা অভিযান চোখে পড়ছে না। ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের একটি সিন্ডিকেট ইচ্ছামতো দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে ফেলেছে বলে অভিযোগ তাদের।
গ্যাস কিনতে এসে ভোগান্তির কথা জানিয়ে সাইফুল ইসলাম বলেন, “রান্নার গ্যাস ছাড়া চলার কোনো উপায় নেই। বাধ্য হয়েই বেশি দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে।”
একই ধরনের দুর্ভোগের কথা জানান আজহার আলী নামের আরেক ক্রেতা। তিনি বলেন, “পাঁচটি দোকান ঘুরেও কোথাও গ্যাস পাইনি। এভাবে গ্যাস সংকট হলে মানুষ চলবে কীভাবে? গ্যাস ছাড়া রান্নাবান্না অসম্ভব। দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দরকার।”
খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, ডিলারদের কাছ থেকে পর্যাপ্ত সরবরাহ না পাওয়ায় বাজারে এই কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে পেট্রোল পাম্পগুলোতেও গ্যাস না থাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে কয়েকজন গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রেতা জানান, “আমরা সরাসরি কোম্পানির কাছ থেকেই গ্যাস কিনি। কিন্তু কয়েকদিন ধরে তারা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রেখেছে। কোম্পানিগুলো জানিয়েছে, গ্যাস আমদানি করতে না পারায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। তাই আপাতত আমাদের কাছেও গ্যাস নেই।”
সরকারি কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট অয়ন ফারহান শামস বলেন, “এই গ্যাস সিলিন্ডারের বিষয়টি আমি নিজেও ভুক্তভোগী করেছে তারপরও আমরা বাজার মনিটরিং চালাচ্ছি।”
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, দিনাজপুর জেলা সহকারী পরিচালক মো. বোরহান উদ্দিন বলেন, “এটি শুধু দিনাজপুরের সমস্যা নয়, এটি সারাদেশের চিত্র। এটি একটি সিন্ডিকেট। আমরা সেই সিন্ডিকেট ধরার চেষ্টা করছি এবং বিষয়টি আমাদের নজরদারিতে রয়েছে।”
এদিকে অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রির অভিযোগের বিষয়ে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ এক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “বাড়তি দামের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। এ বিষয়ে লোয়াবকে চিঠি দিয়ে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। আমদানিকারকদের আমদানি খরচ বাড়লে তারা তা কমিশনে জমা দেবে। যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজন হলে নতুন মূল্য সমন্বয় করা হবে। তার আগে বাড়তি দামে বিক্রির কোনো সুযোগ নেই।”
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম এক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “সরবরাহ না থাকলেও বেশি দামে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে—এটাই প্রমাণ করে যে এখানে অনিয়ম হচ্ছে। অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রি আইনত অপরাধ। কিন্তু বিইআরসি সেই শাস্তি নিশ্চিত করতে পারছে না।”
গ্যাস সংকট দ্রুত নিরসনে কার্যকর নজরদারি, সিন্ডিকেট ভাঙা ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.