শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি
বগুড়ার শেরপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক প্রথম আলোর প্রতিনিধিসহ তিন সাংবাদিককে হত্যাচেষ্টা মামলায় জড়ানোর প্রতিবাদে শেরপুরে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) দুপুরে বগুড়া–ঢাকা মহাসড়কের শেরপুর করতোয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ‘সম্মিলিত সাংবাদিক জোট’-এর ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
দুপুর ১২টা থেকে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী চলা মানববন্ধন ও সমাবেশে বক্তারা অবিলম্বে ওই মামলা থেকে তিন সাংবাদিকের নাম প্রত্যাহার এবং কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়াই মামলা গ্রহণ করায় বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-র অপসারণ দাবি করেন।
মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন শেরপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম মিন্টু, খামারকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মাজেদুর রহমান মিলন, শেরপুর পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মামুনুর রশিদ আপেল, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক সাহাবুল করিম প্রমুখ। এছাড়াও স্থানীয় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক কর্মী ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ কর্মসূচিতে একাত্মতা প্রকাশ করেন।
প্রতিবাদসভায় বক্তারা বলেন, গত ২৯ ডিসেম্বর বগুড়া সদর থানায় দায়ের করা একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় (মামলা নং–৮২) উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তিন সাংবাদিককে আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন— দৈনিক প্রথম আলোর শেরপুর প্রতিনিধি সঞ্জীব কুমার ওরফে সবুজ চৌধুরী, শেরপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক চাঁদনী বাজারের প্রতিনিধি শুভ কুন্ডু এবং দৈনিক প্রভাতের আলো পত্রিকার নিজস্ব প্রতিনিধি সাজ্জাদ হোসেন পল্লব।
সম্মিলিত সাংবাদিক জোটের সমন্বয়ক রঞ্জন কুমার দে-এর সভাপতিত্বে ও সাংবাদিক সৌরভ অধিকারীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি দীপক কুমার সরকার, উত্তরবঙ্গ সাংবাদিক সংস্থার সভাপতি সরোয়ার জাহান, সাংবাদিক নজরুল ইসলাম, ইফতেখার আলম, শফিকুল ইসলাম, আরিফুজ্জামান হীরা, জাহাঙ্গীর আলমসহ অন্যান্য সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা অভিযোগ করেন, এজাহারে তিন সাংবাদিকের প্রকৃত সাংবাদিক পরিচয় গোপন করে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করা হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করা এসব সাংবাদিককে এখন সেই আন্দোলনের হামলাকারী হিসেবে আসামি করা অত্যন্ত নিন্দনীয়। তারা বলেন, তদন্ত ছাড়াই মামলা গ্রহণ করে বগুড়া সদর থানার ওসি চরম অপেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছেন।
বক্তারা দ্রুত দাবি মানা না হলে বগুড়া ও শেরপুরের সাংবাদিক সমাজকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।
মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর স্মারকলিপি প্রদানের উদ্দেশ্যে শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শেরপুর সার্কেল) স্ব-স্ব দপ্তরের পক্ষে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.