আর.কে.বাপ্পা, দেবহাটা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি
সাতক্ষীরার দেবহাটা থানায় ঢাকা থেকে প্রলোভন দেখিয়ে এক যুবককে অপহরণ করে জিম্মি রাখার অভিযোগে পিতা-পুত্রসহ ৩জনকে আটক করা হয়েছে এবং ভিকটিমকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় দেবহাটা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, দেবহাটার খেজুরবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা রবিউল ইসলাম তার ছেলে আক্তারুজ্জামান আশিক (২৫) কে অপহরণের অভিযোগে উপজেলার সখিপুর গ্রামের আক্তারুজ্জামান চান্দুর ২ ছেলে শেখ সাদ আল মেহেদী (৩০) ও শেখ শাকিল হোসেন (২৫), শেখ আক্তারুজ্জামান (চান্দু) (৬২), পিতা- মৃত শেখ খলিলুর রহমান, সাং- সখিপুর, থানা- দেবহাটাসহ অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জনকে আসামী করে দেবহাটা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং- ৩।
অভিযোগে বলা হয়, গত ৩১ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক ৯টার দিকে আসামীরাসহ অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জনকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকায় আশিকের বাসায় যান। পরে নানা প্রলোভন দেখিয়ে রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাকে অপহরণ করে একটি প্রাইভেটকারে সাতক্ষীরার দেবহাটার সখিপুর গ্রামে নিয়ে জিম্মি করা হয়।
এরপর একটি মোবাইল ফোন থেকে বাদীপক্ষকে ফোন করে পরিবারের সদস্যদের জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যাংকের চেকবইসহ সেখানে যেতে চাপ দেওয়া হয়। পরিস্থিতির মুখে আশিকের মা ও বোন সখিপুরে গেলে তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিক ব্যাংকের চেক ও স্বাক্ষরবিহীন নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
দেবহাটা থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, অভিযোগ পেয়ে তার (ওসি)র নেতৃত্বে দেবহাটা থানা পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে ৪ জানুয়ারি গভীর রাতে আসামিদের বাড়ি থেকে অপহৃত যুবককে উদ্ধার করেন।
এসময় আসামিদের হেফাজত থেকে ১১টি স্বাক্ষরিত নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প, সাতটি ব্যাংকের চেক এবং ভুক্তভোগীর মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্র উদ্ধার করা হয় বলে ওসি জানান। এছাড়া ঘটনায় জড়িত তিনজনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বাকি অজ্ঞাতনামা আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে ওসি জানান। ওসি আরো জানান, আসামীদের বিরুদ্ধে ৩৬৫, ৩৮৬ ও ৩৪ পেনাল কোড ধারায় মামলা হয়েছে এবং ভিকটিমের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী রেকর্ড করা হয়েছে।

