দুমকি (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় একটি বেওয়ারিশ পাগলা কুকুরের কামড়ে শিশু ও নারীসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকাল থেকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কুকুরটি এই তাণ্ডব চালায়। আকস্মিক এই ঘটনায় পুরো উপজেলা জুড়ে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল থেকে একটি বেওয়ারিশ কুকুর উপজেলার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় ও প্রধান সড়কে যাকে সামনে পাচ্ছে তাকেই কামড় দিচ্ছে। কুকুরটির বেপরোয়া আচরণে পথচারী ও বাড়ির আঙিনায় থাকা সাধারণ মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েন। অনেকে দৌড়ে বাঁচার চেষ্টা করলেও শেষ রক্ষা হয়নি। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন ক্লিনিকে নিয়ে যান।
আহতদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ। দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক ডাঃ এনামুল হক জানান
সকাল থেকে কুকুরে কামড়ানো রোগীর ভিড় সামলাতে আমাদের বেগ পেতে হচ্ছে। দুর্ভাগ্যবশত হাসপাতালে পর্যাপ্ত ভ্যাক্সিন (জলাতঙ্কের টিকা) মজুদ না থাকায় অধিকাংশ রোগীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে স্থানান্তর (রেফার) করা হয়েছে। হাসপাতালে এসে প্রয়োজনীয় ভ্যাক্সিন না পেয়ে অনেক রোগী ও তাদের স্বজনরা চরম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন।
ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন দুমকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা: ফরিদা সুলতানা। তিনি জানান
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কুকুরটিকে শনাক্ত ও আটক করার জন্য বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। প্রাণিসম্পদ বিভাগের সহায়তায় অভিযান চলমান রয়েছে।
নাগরিকদের সতর্ক থাকতে এবং শিশুদের নিরাপদে রাখতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, কুকুরটিকে এখনো নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা লাঠিসোঁটা নিয়ে রাস্তায় পাহারা দিচ্ছেন এবং অভিভাবকরা ভয়ে শিশুদের ঘরের বাইরে বের হতে দিচ্ছেন না। দ্রুত কুকুরটিকে খুঁজে বের করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এলাকাবাসী প্রশাসনের জোর দাবি জানিয়েছেন।

