হুমায়ন কবির মিরাজ, বেনাপোল
শীত এলেই যশোরের শার্শা উপজেলার বেলতলা বাজার নতুন রূপ নেয়। কুয়াশাভেজা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কুলের ঘ্রাণ আর কেনাবেচার ব্যস্ততায় মুখর থাকে পুরো বাজার। একসময় সীমিত পরিসরে থাকা কুল চাষ এখন শার্শার কৃষি অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ ভরসা হয়ে উঠেছে। শার্শা ও পাশের কলারোয়া উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় গড়ে ওঠা কুলের বাগান ঘিরে বেলতলা বাজার দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ফল সরবরাহের একটি নির্ভরযোগ্য কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
একসময় শার্শা উপজেলার মাঠে কুলের চাষ ছিল সীমিত। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই কুলই হয়ে উঠেছে এলাকার কৃষি অর্থনীতির অন্যতম ভরসা। সীমান্তবর্তী শার্শা উপজেলা ও পাশের সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় গড়ে উঠেছে কুলের বাগান। লাভজনক হওয়ায় প্রতি বছরই নতুন নতুন কৃষক এই চাষে যুক্ত হচ্ছেন, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বেলতলা বাজারের বাণিজ্যে।
স্থানীয় কুলচাষি আকসেদ আলী জানান, চলতি মৌসুমে তিনি ২ বিঘা জমিতে কুলের আবাদ করেছেন। তিনি বলেন, “গত বছরের তুলনায় এ বছর ফলন কিছুটা কম হলেও বাজারে দাম ভালো পাচ্ছি। বেলতলা বাজারের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এখানে সঠিক ওজন পাওয়া যায়, কোনো ধরনের কারচুপি নেই। এতে আমাদের মতো চাষিরা প্রকৃত অর্থেই লাভবান হতে পারছি।”
প্রতিদিন বাজারে উঠছে বিভিন্ন জাতের কুল। বল সুন্দরী, থাই, চায়না, আপেল ও টক কুল—জাতভেদে দামে তারতম্য থাকলেও সব ধরনের কুলই দ্রুত বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, দেশের বড় বড় শহরে কুলের চাহিদা থাকায় এখান থেকে প্রতিদিন ঢাকাসহ বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে কুল পাঠানো হচ্ছে।
ঝিনাইদহ থেকে আসা ফল ব্যবসায়ী মুজাহিদ বলেন, “আমি প্রায় ১৭ বছর ধরে ফলের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। প্রতি বছরই শীত মৌসুমে বেলতলা বাজারে আসি। এ বছর কিছু এলাকায় ফলন কম হলেও বাজারে চাহিদা বেশি থাকায় কুলের দাম ভালো। তুলনামূলক বেশি দামে কিনেও আমরা অন্য বাজারে ভালো দামে বিক্রি করতে পারছি। তাই বেলতলা বাজার আমাদের জন্য সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য।”
বাজারের স্থানীয় আড়তদার সালাউদ্দীন মুকুল, মিনারুল, কামাল ও আব্দুর রাজ্জাক জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর কুলের চাহিদা ও কেনাবেচা দুটোই বেড়েছে। তারা বলেন, “আমাদের বাজারে সঠিক ওজনে ও ন্যায্য দামে কুল বিক্রি হয়। প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত টানা কেনাবেচা চলে। দাম ভালো থাকায় চাষি ও ব্যবসায়ী—উভয় পক্ষই সন্তুষ্ট।”
বেলতলা বাজার ফল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান মুন্না বলেন, কুলকে ঘিরে এই বাজারের সম্ভাবনা অনেক বড়। চাষি ও ব্যবসায়ীরা যেন নির্বিঘ্নে ব্যবসা করতে পারেন, সে জন্য প্রশাসনের সহযোগিতা প্রয়োজন। কুল চাষ যেভাবে বাড়ছে, তাতে ভবিষ্যতে বেলতলা বাজার দক্ষিণাঞ্চলে আমের বাজারের মতো কুলের বাজার হিসেবেও পরিচিতি পাবে।
এ বিষয়ে শার্শা উপজেলা কৃষি অফিসার দীপক কুমার সাহা জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ১৩৮ হেক্টর জমিতে কুল চাষ হয়েছে। তিনি বলেন, বল সুন্দরী, থাই, আপেল, চায়না, নারকেল কুল ও টক কুলের চাষ বেশি হয়েছে। ফলন ও বাজারমূল্য ভালো থাকায় চাষিরা লাভবান হয়েছেন। এই ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী মৌসুমে কুল চাষ আরও বাড়বে।

