শফিকুল ইসলাম সাফা, চিতলমারী (বাগেরহাট)
চিতলমারীতে ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় বেড়েছে শীতের প্রকোপ। তীব্র শীতের কারণে মানুষের পাশাপাশি গবাদি পশু, পাখি, হাঁস-মুরগীসহ অন্যান্য প্রাণীকুলও নাজেহাল হয়ে পড়েছে। এসব প্রাণী রক্ষায় খামারি ও গৃহস্থরা গায়ে চট বা কম্বল জড়িয়ে দিচ্ছেন, তবুও থামছে না শীতের কাঁপুনি। শীতে কাবু হয়ে পড়া গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগী নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন গৃহস্থরা। বিশেষ করে খামারের প্রাণীদের শীতজনিত রোগের আশঙ্কা করছেন খামারিরা।
উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে শীতের তীব্রতা বেড়েই চলেছে। কনকনে শীতে জবুথবু হয়ে পড়েছে মানুষসহ পশু-পাখি, হাঁস-মুরগী বা অন্যান্য প্রাণী। এ অঞ্চলে গত কয়েক দিন ধরে সূর্যের মুখ দেখা যায়নি। চারদিকে ঘন কুয়াশায় ঢেকে আছে। সেই সঙ্গে বইছে উত্তরের হিমেল হাওয়া। দিন শেষে রাত ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে বাড়তে থাকে শীতের দাপট। কনকনে এ ঠান্ডায় জবুথবু হয়ে পড়া পশু-পাখি নাজেহাল হয়ে উঠেছে। এতে শীতজনিত নানা রোগের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ফতেমা নামের এক গৃহবধূ জানান, তার স্বামী পেশায় একজন দিনমজুর। বাপের বাড়ি থেকে একটি গাভী দিয়েছেন, কিন্তু শীতের দাপটে ওইসব প্রাণী রক্ষায় চরম দুশ্চিন্তায় আছেন তিনি। বড়বাড়িয়া এলাকার শওকত শেখ বলেন, গরু-ছাগল লালন-পালন করে সংসার চালাই, কিন্তু গত কয়েক দিনের ঠান্ডায় এসব প্রাণী কাবু হয়ে পড়েছে। কম্বল মুড়িয়ে দিয়েও কাজ হচ্ছে না।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আহমেদ ইকবাল বলেন, শীতকালে গরু-ছাগল-ভেড়া, হাঁস-মুরগী পালনে যত্নশীল হতে হবে। ঘরের চারদিকে পাটের চট বা পলিথিন দিয়ে ঘিরে রাখতে হবে যাতে ঠান্ডা বাতাস ঢুকতে না পারে। প্রয়োজনে গরুকে পুরনো কম্বল বা পাটের বস্তা দিয়ে জড়িয়ে রাখতে হবে। ছাগল-ভেড়ার ক্ষেত্রে কাঠের অথবা বাঁশের তৈরি মাচা ব্যবহার করতে হবে। শীতকালে গবাদিপশুকে অধিক ক্যালরিযুক্ত খাবার দিতে হবে। ছোট বাছুর ও ছাগলছানার শরীর গরম রাখতে গরম কাপড় দিয়ে জড়িয়ে রাখাসহ থাকার স্থানে পুরু করে শুকনো খড় বা পাটের বস্তা বিছিয়ে দিতে হবে। কোনো কারণে গবাদি পশু বা হাঁস-মুরগী অসুস্থ হলে দ্রুত উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর বা ভেটেরিনারি হাসপাতালে যোগাযোগ করে চিকিৎসা নিতে হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.