বাকেরগঞ্জ ( বরিশাল) প্রতিনিধি
বরিশালের বাকেরগঞ্জে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীতে পড়ুয়া শিক্ষার্থী দিয়ে মাদ্রাসার (ইবতেদীয়া ৫ ম শ্রেনীর) বৃত্তি পরীক্ষা অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে দুইটা এবতেদায়ী মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।
২০২৫ শিক্ষা বর্ষে বাকেরগঞ্জ উপজেলায় ২ টি ভেন্যুতে মাধ্যমিক স্কুলের অষ্টম শ্রেণির জেএসসি ও মাদ্রাসা পর্যায়ের জেডিসি ও ইবতেদীয়া ৫ ম শ্রেনীর বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বাকেরগঞ্জ সরকারী বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন দাখিল অষ্টম শ্রেণী ও ইবতেদীয়া শাখার ৫ ম শ্রেনীর বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে, এবং জেএসইউ মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে মাধ্যমিক পর্যায়ের অষ্টম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
পরীক্ষার শেষ দিনে গনমাধ্যম সূত্রে সরকারি বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে হঠাৎ পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচরে আসে এমন চাঞ্চল্যকর বিষয়টি।
অনুসন্ধানে দেখা যায় উপজেলার বিলকিস জাহান টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড (বিএম) কলেজের ৭ ম শ্রেণীর অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী মিম আক্তার ৯ নং কলসকাঠী ইউনিয়নের গুরিয়া গ্রামের মোশাররফ হাওলাদারের মেয়ে গারুড়িয়া ইউনিয়নের পশ্চিম বালিগ্রাম স্বতন্ত্র ইবতেদীয়া মাদ্রাসার ৫ম শ্রেনীর ছাত্রী হয়ে পরীক্ষা দিচ্ছেন (যাহার রোল নং ১৩৬৬১৬)। মাদ্রাসা পরীক্ষা কেন্দ্র বাকেরগঞ্জ ১ (৫২১) এর উপ কেন্দ্র সরকারি বাকেরগঞ্জ বালিকা বিদ্যালয়ের ৩০৩ নং কক্ষে।
এবং কলসকাঠী বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের ৭ ম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী রুকাইয়া আক্তার ৯ নং কলসকাঠী ইউনিয়নের ঘুড়িয়া গ্রামের রফিকুল ইসলামের মেয়ে কলসকাঠী ইউনিয়নের ঘুড়িয়া স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী হয়ে ২০২৫ সালের বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন (যাহার রোল নং ১৩৬৬০৯)।
এবং অন্য একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নুরনবী মল্লিক ৯ নং কলসকাঠী ইউনিয়নের ঘুড়িয়া গ্রামের খলিল মল্লিকের ছেলে (যাহার রোল নং ১৩৬৬১২) ও চাঁদনী আক্তার ৯ নং কলসকাঠী ইউনিয়নের ঘুড়িয়া গ্রামের রফিক শিকদার এর ছেলে।
এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা খন্দকার আমিনুল ইসলাম জানান, এক শিক্ষার্থী দুই প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়ন করছে।
আপনাদের মাধ্যমে অবগত হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ স্যারের নির্দেশে কেন্দ্রে গিয়ে গুরিয়া স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার অংশ নেয়া ৫ জন শিক্ষার্থী মধ্যে ৪ জন অন্য তিনটি পরীক্ষায় উপস্থিত ছিলেন। আজ ঐ প্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষার্থী উপস্থিত পাওয়া যায়নি।
পশ্চিম বালিগ্রাম স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার থেকে অংশগ্রহণ করা অভিযুক্ত শিক্ষার্থী মিম আক্তার কে উপস্থিত পাওয়া গেছে। একই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পঞ্চম শ্রেণীতে ও আরেক প্রতিষ্ঠানে সপ্তম শ্রেণীতে পড়ার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। প্রতিষ্ঠানের দুই প্রধানকে ডেকেছি, যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ বলেন, বিষয়টি শুনেছি। তদন্ত করে শিক্ষার্থীর ফলাফল স্থগিত করা হবে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

