মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
শীত মৌসুমে জনপ্রিয় খেলা ব্যাটমিন্টন। শীতকালে এলেই আমাদের দেশের ১০ বছরের শিশু থেকে যুবকদের প্রিয় খেলা হয়ে ওঠে ব্যাটমিন্টন। সারাদেশেই সন্ধার পর থেকেই শুরু হয় ব্যাটমিন্টন খেলার নানা আয়োজন। কেউ কেউ আবার ব্যাটমিন্টনের পাশাপাশি গ্রামে পরিচিত ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত বাউন্ডারি ভার্সনের নাক্কু টুর্নামেন্টের আয়োজন করেন। আমাদের মুন্সীগঞ্জের পুরো জেলা জুড়ে পাড়া-মহল্লার আনাচে-কানাচে বিভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে চলে ব্যাটমিন্টন খেলা।
এই ব্যাটমিন্টন খেলা প্রায় ৯৫ শতাংশই চলে অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারের কারণে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সরকারের বিদ্যুৎ বিভাগ এবং পল্লী বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী সাধারণ গ্রাহক। আবার এ খেলায় বিদ্যুৎ ব্যবহারের পদ্ধতির কারণে বাড়ছে দূর্ঘটনার সম্ভবনা।
ব্যাটমিন্টন খেলার জন্য প্রয়োজন হয় বিদ্যুৎ ও উচ্চ ক্ষমতা সম্পূর্ণ ইলেকট্রিক বাতির। ব্যাটমিন্টন খেলার আয়োজকরা বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন, আশপাশের বৈদ্যুতিক খুঁটিসহ সরাসরি বিদ্যুৎ বিভাগের বৈদ্যুতিক লাইন থেকে। এভাবে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করার ফলে সরকারের বিদ্যুৎ বিভাগ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
আবার খোলামেলা ভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারের কারণে বাড়ছে মারাত্মক দূর্ঘটনা ও বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু ঝুঁকি। এ ক্ষেত্রে মুন্সীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কর্তৃপক্ষের তেমন মাথা নেই। কারণ যে এলাকায় অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়, বিল করার সময় ওই এলাকার সাধারণ গ্রাহকদের সাথে অবৈধ বিদ্যুৎ খরচ সমন্বয় করা হয়।
এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ অভিযানের কথা বললেও, রাতের বেলায় তাদের অভিযান পরিচালনা করার তথ্য কোন এলাকায় হতে পাওয়া যায়নি। এভাবে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করার কারণে সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব। আবার যে এলাকায় অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার হচ্ছে, সে এলাকার সাধারণ গ্রাহকদের সাথে অবৈধ ব্যবহারকৃত বিদ্যুৎ বিল সমন্বয়ের কারণে বাড়তি বিদ্যুৎ বিলের বোঝা বহন করতে হচ্ছে বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী সাধারণ গ্রাহকদের।
কয়েকটি স্থানে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বেশিরভাগ ব্যাটমিন্টন খেলা আয়োজন করা হয়েছে বৈদ্যুতিক খুঁটির আশেপাশে। আর এ খেলার আয়োজন করা হয়েছে বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। কোন কোন জায়গায় বৈদ্যুতিক খুঁটি না থাকলেও সরাসরি খুঁটির সাথে সংযুক্ত মেইন বৈদ্যুতিক লাইন থেকে বিদ্যুৎ নেওয়া হচ্ছে।
আর এসব বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য খোলামেলা ভাবে নিজস্ব পদ্ধতিতে বৈদ্যুতিক তার ও বাতি ছোট ছোট কয়েকটি বোর্ডের সাথে সংযুক্ত করে ব্যবহার করা হয়েছে। এসব স্থানে যেভাবে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হয়েছে, এমন পদ্ধতি ব্যবহারে বাড়ছে মারাত্মক দূর্ঘটনার সম্ভবনা। এমনক দূর্ঘটনার কারণে ঘটতে পারে মৃত্যুও।
এছাড়াও পুরো জেলা জুড়ে অধিক সংখ্যক স্থানে অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারের কারণে আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
তথ্য সুত্রে আরও জানা গেছে, কিছু কিছু স্থানে এ ব্যাটমিন্টন খেলার আয়োজন ঘিরে জমে ওঠে মাদকের আড্ডা। খেলার সময় রাতভর চলে মাদক সেবন। দুঃখজনক হলেও সত্যি এ খেলার মাধ্যমে কোন কোন স্থানে চলে জুয়ার আসর। আবার এ খেলাকে কেন্দ্র করে অনেক সময় ঝগড়া ফ্যাসাদের সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কাজী বিপ্লব হাসান জানান, খেলাধুলা ভাল বিষয় কিন্তু অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিষয়ে সরকার, প্রশাসন ও কর্তৃপক্ষের তদারকির মাধ্যমে আরও সচেষ্ট হওয়া উচিৎ। তাছাড়া যারা অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে তাদের খোলামেলা ভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারের দূর্ঘটনা সম্পর্কে সচেতন করার পদক্ষেপ গ্রহন করা প্রয়োজন।
মুন্সীগঞ্জ জেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সভাপতি হামিদুল ইসলাম লিংকন জানান, অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারের কারণে সরকার প্রকৃত রাজস্ব হারাচ্ছে। আবার সাধারণ গ্রাহকদের উপরও চাপ বাড়ছে। আমি কতৃপক্ষকে অনুরোধ করবো, তদন্ত করে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে।
এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেলারেল ম্যানেজার মো: ইউসুফ আলী বলেন, মাঝে মধ্যেই অভিযান করে জরিমানা করা হয়। সঠিক ভাবে এগুলো জানা তো আর সম্ভব নয়। তবে আমরা খবর পেলে অভিযান চালাই।
মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান জানান, ব্যাটমিন্টন খেলায় অবৈধ বিদ্যুৎ ও দূর্ঘটনার বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। আর মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে ও থাকবে।
খেলাধূলা যদি হয় প্রাণনাশের কারণ এবং সরকার ও সাধারণ গ্রাহক যদি আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে এ বিষয়ে আমাদের অভিভাবক, খেলোয়াড়, সরকার ও বিদ্যুৎ বিভাগকে আরো বেশি সর্তক হওয়া উচিৎ। দূর্ঘটনা, মাদক, সরকারের আর্থিক ক্ষতি বিহীন ক্রীড়া ব্যবস্থা ছড়িয়ে পড়ুক যুব সমাজসহ সারাদেশে—এমনটাই প্রত্যাশা।

