তারাইল (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদকের দাপটে যখন রাজনীতির ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা টালমাটাল, ঠিক তখনই কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ–তাড়াইল) আসনে এক ভিন্নধর্মী রাজনৈতিক বার্তা নিয়ে আলোচনায় এসেছে শান্তির প্রতীক ‘হাতপাখা’।
শান্তি–ইনসাফ–কল্যাণরাষ্ট্রের বার্তা নিয়ে মাঠে পীর সাহেব চরমোনাই মনোনীত প্রার্থী মোঃ আলমগীর হোসাইন তালুকদার। নৈতিকতা ও সততা রাজনীতির আহ্বান জানিয়ে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। তাঁর এই উপস্থিতি প্রচলিত ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির বাইরে নতুন এক প্রত্যাশার জন্ম দিয়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, করিমগঞ্জ ও তাড়াইল অঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক সংকট, বেকারত্ব, মাদক বিস্তার, ন্যায়বিচার প্রাপ্তির জটিলতা ও রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের দৌরাত্ম্যে ক্ষুব্ধ। ভোট আসে, প্রতিশ্রুতি আসে—কিন্তু ভোটের পর সাধারণ মানুষের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন খুব কমই আসে, এমন অভিযোগ ঘুরেফিরে এসেছে এলাকাবাসীর মুখে।
তাড়াইল উপজেলা সদর বাজারের একজন দোকানদার বলেন, আমরা এখন উন্নয়নের স্লোগান নয়, সৎ মানুষ চাই। যে ভয় পাবে না, বিক্রি হবে না।
এই প্রেক্ষাপটে মোঃ আলমগীর হোসাইন তালুকদার নিজেকে তুলে ধরছেন একজন আদর্শিক ও জনমুখী রাজনীতিক হিসেবে। তিনি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য ও কিশোরগঞ্জ জেলা সভাপতি। অতীতে জাতীয় শিক্ষক ফোরামের সাবেক কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল এবং ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের সাবেক ছাত্রনেতা হিসেবে সংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেছেন। একজন হাফেজ, মাওলানা ও প্রভাষক হিসেবে শিক্ষা ও নৈতিকতা তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের মূল ভিত্তি। দলীয় সূত্র জানায়, সততা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও বিতর্কমুক্ত ব্যক্তিগত জীবনের কারণেই পীর সাহেব চরমোনাই তাঁকে কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে মনোনয়ন দিয়েছেন।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, হাতপাখা প্রতীকটি এখানে শুধু একটি নির্বাচনী চিহ্ন নয়; এটি দুর্নীতিবিরোধী প্রতিবাদ, শান্তিপূর্ণ রাজনীতি ও কল্যাণরাষ্ট্রের দাবির প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাচ্ছে। প্রচারণায় নেতিবাচক বক্তব্য বা সংঘাতের বদলে মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন, শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার ও ন্যায়বিচারের কথা গুরুত্ব পাচ্ছে।
মোঃ আলমগীর হোসাইন তালুকদার বলেন, হাতপাখা মানে শান্তি। এই প্রতীক মানে লুটপাটের রাজনীতির বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান। জনগণ যদি আমাকে দায়িত্ব দেন, আমি সংসদকে জনগণের কথা বলার জায়গা বানাতে চাই।
তবে অনুসন্ধান বলছে, ভোটারদের একটি অংশ এখনো বাস্তববাদী প্রশ্ন তুলছেন—একজন আদর্শিক প্রার্থী সংসদের বাস্তব রাজনীতিতে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন? বড় দল ও প্রভাবশালী গোষ্ঠীর চাপে তিনি কতটা অবিচল থাকতে পারবেন?
এই প্রশ্নের জবাবে প্রার্থী বলেন, রাজনীতি আমার কাছে ক্ষমতার সিঁড়ি নয়, এটি আমানত। আপস করলে মানুষের কাছে মুখ দেখানোর সাহস থাকত না।
এলাকায় বিশেষভাবে লক্ষ্য করা গেছে, তরুণ ভোটার ও শিক্ষক সমাজের মধ্যে তাঁর প্রার্থিতা নিয়ে আগ্রহ তুলনামূলক বেশি। শিক্ষক সংকট, নৈতিক শিক্ষার অভাব ও যুবসমাজকে মাদক থেকে রক্ষার প্রশ্নে তাঁর অবস্থান তাঁদের কাছে বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে করছেন অনেকে। একজন তরুণ ভোটার বলেন, তিনি অন্তত সমস্যাগুলো অস্বীকার করেন না—এটাই অন্য সব প্রার্থী থেকে আলাদা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থীর ভূমিকা নির্ধারিত হবে সাধারণ ভোটারদের নীরব সমর্থন, ভোটের পরিবেশ এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর। শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাঝেও আদর্শিক ভোট বিভাজনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারেন।
অনুসন্ধানী মূল্যায়ন থেকে বলা যায়, কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের মানুষ পরিবর্তনের অপেক্ষায়। সেই পরিবর্তন আদর্শিক রাজনীতির মাধ্যমে আসবে কি না, তার উত্তর দেবে ব্যালট। তবে নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, শান্তির প্রতীক হাতপাখা এই নির্বাচনে রাজনীতির আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

