আগৈলঝাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি
বরিশালের আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাবের নামে গভীর রাতে কথিত রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে একটি অবৈধ ও অসাংবিধানিক কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাব নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
এ ঘটনায় সাধারণ পরিষদের সভায় মঙ্গলবার
(৬ জানুয়ারি)বিকেলে উপস্থিত ১৪ জন সদস্য একযোগে অঙ্গীকারনামা দিয়ে ওই তথাকথিত কমিটিকে অবৈধ ঘোষণা করেন এবং ঘটনাটিকে ষড়যন্ত্রমূলক, গঠনতন্ত্রবিরোধী ও সাংবাদিকতা পেশার জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন।
একই সঙ্গে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই সদস্যকে ৬ জানুয়ারি প্রেসক্লাব কার্যালয়ে সাধারণ পরিষদের উপস্থিত ১৪ জন সদস্যের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত জরুরি সাধারন সভায় প্রেসক্লাবের গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং সদস্যদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অভিযোগে তাৎক্ষণিকভাবে আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাবের নির্বাহী সদস্য মো. মাহাবুবুল ইসলাম মাহাবুব ও সদস্য এসএম ওমর আলী সানীকে বহিষ্কার করা হয়। সভায় উপস্থিত সদস্যরা সর্বসম্মতিক্রমে এই বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।
প্রেসক্লাব সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ ডিসেম্বর (সোমবার) আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাব’র সাধারণ পরিষদের সভা ও ২০২৬ সালের কার্যকরী কমিটির নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী আইনসম্মতভাবে অনুষ্ঠিত হয়। ১৬ সদস্যের মধ্যে ১৪ জনের উপস্থিতিতে কোরাম পূর্ণ করে সর্বসম্মতিক্রমে মোঃ শামীমুল ইসলামকে সভাপতি এবং এফ এম নাজমুল রিপনকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করে পূর্ণাঙ্গ কার্যকরী কমিটি গঠন করা হয়।
একই সভায় নবনির্বাচিত কমিটিকে প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক সভাপতি সরদার হারুন রানা শপথ বাক্য পাঠ করান। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের পহেলা জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) প্রেসক্লাব কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত প্রথম সাধারণ পরিষদের সভায় নবগঠিত এই কমিটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়। সাধারণ পরিষদের সভায় ২০২৬ সালের জন্য গঠিত এই কমিটিকেই প্রেসক্লাবের একমাত্র বৈধ, সাংবিধানিক ও কার্যকর কমিটি হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
কিন্তু এর বিপরীতে গত ৫ জানুয়ারি গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকায় সভাপতি মাহাবুবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক ওমর আলী সানির নাম উল্লেখ করে আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাবের নামে আরেকটি কমিটি ঘোষণার খবর প্রকাশ পায়। প্রেসক্লাবের অধিকাংশ সদস্য অভিযোগ করে বলেন, প্রেসক্লাবের গঠনতন্ত্রকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বহিরাগত ও অযোগ্য ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করে কথিত রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে এই কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অবৈধ, অসাংবিধানিক ও ক্ষমতাবিহীন।
এ ঘটনার পরদিন ৬ জানুয়ারি বিকেলে সাধারণ পরিষদের উপস্থিত ১৪ জন সদস্যের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত জরুরি সভায় গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন, সংগঠনের শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং বিভ্রান্তি সৃষ্টির অভিযোগে মাহাবুবুল ইসলাম ও ওমর আলী সানিকে আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাব থেকে বহিষ্কার করা হয়।
এদিকে, একই দিনে সাধারণ পরিষদের সভায় উপস্থিত ওই ১৪ জন সদস্য যৌথভাবে দেওয়া এক অঙ্গীকারনামায় উল্লেখ করেন, তাদের কাউকেই না জানিয়ে এবং কারও সম্মতি ছাড়াই তথাকথিত ওই কমিটিতে তাদের নাম ব্যবহার করা হয়েছে। তারা এটিকে ব্যক্তিগত অধিকার লঙ্ঘনের পাশাপাশি প্রেসক্লাবের ঐতিহ্য ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলার ওপর সরাসরি আঘাত বলে উল্লেখ করেন।
অঙ্গীকারনামায় আরও বলা হয়, ‘রাতের আঁধারে প্রেসক্লাবের নামে কমিটি ঘোষণা কোনো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নয়। এটি সাংবাদিক সমাজকে বিভক্ত করার একটি সুপরিকল্পিত অপচেষ্টা।’
বৈধ কমিটির পক্ষে থাকা সদস্যরা জানান, অবৈধ কমিটি ঘোষণার বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার বন্ধ না হলে তারা প্রয়োজনে আইনগত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবেন।
প্রেসক্লাবের সিনিয়র সদস্যরা বলেন, যারা প্রেসক্লাবের সদস্য নন কিংবা গঠনতন্ত্রের বাইরে অবস্থান করছেন, তাদের দিয়ে কমিটি সাজানো মানে সাংবাদিকতার পেশাগত মর্যাদাকে ভূলুণ্ঠিত করা। তারা আরও বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড কেবল একটি সংগঠন নয়, পুরো সাংবাদিক সমাজের বিশ্বাসযোগ্যতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে। সিনিয়র সদস্যরা অবিলম্বে অবৈধ কমিটি প্রত্যাহার এবং বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এব্যাপারে আগৈলঝাড়া রিপোর্টাস ইউনিটির আহবায়ক জহিরুল ইসলাম সবুজ জানান, আমাদেরকে না জানিয়ে বির্তকিত কমিটিতে আমাদের নাম অর্ন্তভুক্ত করা হয়েছে এবং আমাদের সংগঠনকে বিলুপ্ত করা হয়েছে বলে যা লেখা হয়েছে তা সম্পূর্ন মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
আগৈলঝাড়া উপজেলা রিপোর্টাস ইউনিটির সভাপতি মো. সাইফুল মৃধা সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের উপজেলা রিপোর্টাস ইউনিটি বিলুপ্ত করা হয়নি। আমরা প্রেসক্লাবের বির্তকিত কমিটির সাথে জরিত না।
আগৈলঝাড়া উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এইচএম মাসুম জানান, আমাদের সংগঠন বিলুপ্ত করা হয়নি। আমাদের সংগঠনের কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে।
আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল রিপন বলেন, যারা প্রেসক্লাবের সদস্য নন কিংবা গঠনতন্ত্রের বাইরে অবস্থান করছেন, তাদের দিয়ে কমিটি সাজানো মানে সাংবাদিকতার পেশাগত মর্যাদাকে ভূলুণ্ঠিত করা। এ ধরনের কর্মকাণ্ড কেবল একটি সংগঠন নয়, পুরো সাংবাদিক সমাজের বিশ্বাসযোগ্যতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।
সদস্যরা জানান, অবিলম্বে অবৈধ কমিটি প্রত্যাহার এবং বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. শামীমুল ইসলাম জানান, প্রেসক্লাবের নতুন কমিটি এখন চলমান রয়েছে। প্রেসক্লাবের নাম ব্যবহার করে অবৈধ ভাবে যে কমিটি করা হয়েছে তা সম্পূর্ন মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

