রাজবাড়ী প্রতিনিধি
রাজবাড়ীর পদ্মা নদীতে টানা দুই থেকে তিন দিন ধরে কুমির ভেসে উঠতে দেখা যাওয়ায় নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ভীতির পাশাপাশি কৌতূহলও দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। কুমিরটি কখনও সকালে, কখনও দুপুরে নদীর বুকে ভেসে উঠছে বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।
মঙ্গলবার বিকেলে রাজবাড়ী সদর উপজেলার বরাট ইউনিয়নের উড়াকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে পদ্মা নদীর পাড়ে গিয়ে দেখা যায়, শতাধিক মানুষ নদীর দিকে তাকিয়ে আছেন কুমিরের দেখা পাওয়ার আশায়। এলাকাজুড়ে উৎকণ্ঠা ও আতঙ্কের পরিবেশ বিরাজ করছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রেজা খান বলেন, “শুনতেছি এখানে কুমির ভেসে উঠতেছে। আজও কয়েকবার দেখা গেছে। তাই আমিও দেখতে এসেছি, কিন্তু এখনো চোখে পড়েনি।”
উড়াকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী জানায়, “এই নদীতে প্রতিদিন সকাল-বিকাল মানুষ গোসল করে। কুমির দেখার পর থেকে কেউ আর নদীতে নামতে চায় না। নামলে যদি কুমির টেনে নিয়ে যায়—এই ভয় সবার মধ্যেই কাজ করছে।”
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা মাসুদ মোল্লা বলেন, “কুমির ধরার ব্যবস্থা করা দরকার। না হলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আমরা নদীতে গোসল করি, গরু-ছাগলও গোসল করাই। কিন্তু গত দুই দিন ধরে ভয়ে কেউ নদীতে নামতেছে না।”
এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। রবিউল রবি নামে এক যুবক ফেসবুকে লেখেন, উড়াকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে পদ্মা নদীতে কুমিরটি আজ কয়েকবার ভেসে উঠেছে। যেখানে কুমিরটি দেখা গেছে, সেখানে প্রতিদিন শত শত মানুষ গোসল করে। সবাইকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানান তিনি।
এ বিষয়ে রাজবাড়ী বনবিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মীর সায়েদুর রহমান বলেন, “মাগরিবের নামাজের পর বিষয়টি জানতে পারি। সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় আজ নদীতে যাওয়া সম্ভব হয়নি। আগামীকাল সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাল নিশান টাঙানো হবে, চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের জানানো হবে এবং মাইকিং করে এলাকাবাসীকে সতর্ক করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “যেহেতু কুমিরটি মূল নদীতে ভেসে উঠেছে, তাই সেটিকে ধরা সম্ভব নয়। যদি শাখা নদীতে থাকতো, তাহলে ধরার চেষ্টা করা যেত। আপাতত মানুষকে সচেতন করাই আমাদের প্রধান করণীয়।”
কুমিরের উপস্থিতিতে নদীপাড়ের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয়রা দ্রুত কার্যকর ও স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

