মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
শ্রীমঙ্গলের এক সময়ের দরিদ্র আওয়ামী লীগ নেতার হঠাৎ সম্পদশালী হয়ে ওঠা এবং তার তিন ছেলের প্রবাসযাত্রা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন ৫নং কালাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম. এ. মতলীব।
নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী, এম. এ. মতলীবের সম্পদ বিবরণীতে উল্লেখ ছিল মাত্র ৫ শতাংশ পিতৃক ভিটে, একটি মাসিক সঞ্চয় এবং ভাতাভিত্তিক আয়ের মাধ্যমে পরিবার পরিচালনার তথ্য।
২০১১ সালে তিনি প্রথমবারের মতো ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে গরুগাড়ি প্রতীক নিয়ে প্রার্থী হন। সে সময় ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের আর্থিক সহায়তা ও শ্রম–ঘামের ওপর ভর করেই তিনি নির্বাচনে বিজয়ী হন। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা ও দারিদ্র্য পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সাধারণ মানুষ তাকে উৎসাহ ও সমর্থন জানিয়েছিলেন।
২০১৬ সালে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করলেও তিনি পরাজিত হন। তবে ২০২১ সালে উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদের আশীর্বাদ ও আওয়ামী লীগের সমর্থনে পুনরায় নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করে তিনি দ্বিতীয়বারের মতো চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
চেয়ারম্যান হওয়ার পরপরই তার জীবনযাত্রায় চোখে পড়ার মতো পরিবর্তন আসে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি বিপুল সম্পদের মালিক বনে যান। একপর্যায়ে তার তিন ছেলেকেই প্রবাসে পাঠানো হয়—যাদের প্রত্যেকেই আগে ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। বড় ছেলে অবস্থান করছেন মালেশিয়ায়, দ্বিতীয় ছেলে লন্ডনে এবং সর্বশেষ গত এক সপ্তাহ আগে সর্বকনিষ্ঠ ছেলে পাড়ি জমান সাইপ্রাসে।
অন্যদিকে, তার মেয়েরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। চেয়ারম্যান নিজে বর্তমানে শ্রীমঙ্গলে একটি আলিশান ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে বসবাস করছেন বলেও জানা গেছে।
এই পরিস্থিতিতে ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের মধ্যে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—কীভাবে একজন ব্যক্তি অল্প সময়ের ব্যবধানে ‘জিরো থেকে হিরো’ হয়ে উঠলেন? অভিযোগ রয়েছে, চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়ে অর্জিত বিপুল অর্থ ও সম্পদের একটি অংশ বিদেশে পাচার করা হয়েছে, বিশেষ করে লন্ডনে অবস্থানরত ছেলের মাধ্যমে। নাম–বেনামে গড়ে তোলা এসব অর্থ ও সম্পদের প্রকৃত উৎস কী—তা নিয়ে জনমনে ব্যাপক সন্দেহ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ জনগণ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, এম. এ. মতলীবের দেশি ও বিদেশি সম্পদের পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত অর্থের উৎস জাতির সামনে তুলে ধরা হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.