মান্দা ( নওগাঁ) প্রতিনিধি
নওগাঁর মান্দায় দেবোত্তর সম্পত্তির মালিকানা, জিম্মাদার ও দখলদারিত্ব ধরে বাস্তুভিটা মন্দিরের রোপণকৃত সরিষা ফসলে আগাছানাশক বিষ প্রয়োগ ফসল নষ্টের চেষ্টা করেছেন অভিযুক্তরা।
গত বুধবার (১৪ জানুয়ারি) গভীর রাতে উপজেলার ভারশোঁ ইউনিয়নের বাঁকাপুর গ্রামে এঘটনা ঘটে।
এঘটনায় বাঁকাপুর হিন্দু সম্প্রদায়ের সার্বজনীন সামাজিক কমিটির সভাপতি কমল মন্ডল সহ অন্যান্যরা একই গ্রামের কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন।
অভিযুক্তরা হলেন,বাঁকাপুর গ্রামেের নয়ন মন্ডল (৪০), নব কুমার প্রাং (৩৮), পরী শাহ (৫২),আনন্দ শাহ (৫৩), কালিচরণ শাহ (৪৬),গৌতম শাহ (৩৮) ও পলাশ (২৮) সহ আরো অঙ্গাত ২০/৩০ জন।
সরেজমিন ও স্থানীয় সুত্রে জানাগেছে, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন থেকে দেবোত্তর সম্পত্তির জিম্মাদার হিসাবে ভোগদখল করে আসছিলেন। বেশ কিছুদিন আগে জিম্মাদারেরে নিকট থেকে উক্ত সম্পত্তি বাস্তুভিটা মন্ডবের নামে দখল নিয়ে এলাকাবাসী চাষাবাদ শুরু করেন জিম্মাদাররা উক্ত সম্পত্তি হতে দখলচ্যুত হওয়ায় এমন কান্ড ঘটিয়ে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।
এলাকাবসীর আরো অভিযোগ করে বলেন, দেবোত্তরের নামে খতিয়ান হওয়ায় উক্ত সম্পত্তি বাসতুভিটা মন্ডবের নামে হস্তান্তর করেন এলাকাবাসী বিবাদমান সম্পত্তি উদ্ধার করার পর থেকে সামাজিক কমিটির লোকজন ও এলাকাবাসী চাষাবাদ করে আসছিলেন।
সেই মোতাবেক এবারো সামাজিক কমিটির লোকজন ও এলাকাবাসী, রবি ফসল হিসাবে সরিষা রোপণ করেন। এতে করে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে রাতের অন্ধকারে সরিষা ফসলে আগাছানাশক বিষ প্রয়োগ ফসল নষ্ট করে দেয়।
রামপদ সরকার বলেন,দেবত্তরের সম্পত্তি নিয়ে পূর্ব পুরুষ থেকে বিরোধ চলে আসছিল। দেবোত্তরের নামে বেদখল সম্পত্তি মন্দির কমিটি ও গ্রামবাসী মিলে উদ্ধার করে সরিষা রোপন করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গভীর রাতে কালিচরণ,পরী,গৌতম,আনন্দসহআরো অনেকে বিষ প্রয়োগ করে সরিষা মেরে ফেলেন। গ্রামেের একশত আট ঘরের লোকজন দেবোত্তর সম্পত্তির পক্ষে। অভিযুক্তরা পাঁচ থেকে ছয় ঘর সম্পত্তি আত্মসাতের পক্ষে।
সম্পত্তি আত্মসাতকারীরা নিজেদের জিম্মাদার দাবি করে বিরোধীতা করে আসছেন। এই কারণে তারা ফসলের সাথে শত্রুতা করেছেন। এমন ঘটনার জন্য এলাকাবাসী অভিযুক্তদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
গ্রামেের বাসিন্দা অতুল সরকার বলেন,প্রকৃতির ডাকে ছাড়া দিতে বাহিরে গেলে গভীর রাতে নয়নকে বিষ প্রয়োগের মেশিন নিয়ে জমি থেকে উঠে আসতে দেখেছি।
অপরদিকে অভিযুক্ত আনন্দ সাহার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন,ঘটনার সাথে আমাদের কোন সম্পৃক্ততা নেই। নিজেরাই এমন কাজ করে আমাদেরকে উপর চাপানোর চেষ্টা করছেন।
মান্দা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুদ রানা বলেন,এ ব্যপারে কোন অভিযোগ হয়নি। জমিতে ফসল নষ্টের বিষয়ে থানাতে অভিযোগ নেওয়া হবে না। জমি সংক্রান্ত বিষয় হওয়ায় আদালতে মামলা করতে বলেন।

