মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ৫নং কালাপুর ইউনিয়নে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার কাজে টিআর, কাবিখা ও কাবিটা কর্মসূচির আওতায় বরাদ্দকৃত অর্থে ব্যাপক অনিয়ম ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ১৯টি প্রকল্পে প্রায় ৬২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও অধিকাংশ প্রকল্পেই বাস্তব কাজ না করে কাগজ-কলমে শতভাগ বাস্তবায়ন দেখানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মোট বরাদ্দের প্রায় ২৫ শতাংশ অর্থাৎ ৪টি প্রকল্পের নামে প্রায় ১৬ লাখ টাকা উত্তোলন করেছেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম.এ. মতলীব। অপরদিকে বরাদ্দের ৭৫ শতাংশ অর্থাৎ ১৫টি প্রকল্পের প্রায় ৪৬ লাখ টাকা উত্তোলন করেছেন ৮ জন সাধারণ ইউপি সদস্য ও ৩ জন সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য।
অভিযোগে আরও বলা হয়, জন প্রতি ৪ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও ৩নং ওয়ার্ডের সদস্য সাজাপ্রাপ্ত আসামি হওয়ায় আইনি জটিলতার কারণে তার প্রকল্পে সভাপতি হিসেবে ৫নং ওয়ার্ডের সদস্যকে দেখিয়ে অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে।
অনেক ওয়ার্ডে পুরনো রাস্তার ইট তুলে সামান্য নতুন ইট যোগ করে পুনরায় ইট সলিংয়ের কাজ সম্পন্ন দেখানো হয়েছে। এভাবেই অধিকাংশ প্রকল্পে নামমাত্র কাজ করে পুরো বিল উত্তোলন করা হয়।
এছাড়াও আরও ১৪টি প্রকল্পের নামে খাতায়-কলমে প্রায় ১৪ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও মাঠ পর্যায়ে গিয়ে কোনো দৃশ্যমান কাজের আলামত পাওয়া যায়নি। অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রকল্পের সম্পূর্ণ বিল উত্তোলন করে চেয়ারম্যান এম.এ. মতলীবের নেতৃত্বে ভাগ-বাটোয়ারা করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইউনিয়ন পরিষদের দুইজন ইউপি সদস্য বলেন, “আমাদের কিছুই করার নেই। বিভিন্ন খরচের নামে চেয়ারম্যানকে আমাদের প্রত্যেক সদস্য ও মহিলা সদস্যকে বরাদ্দের ৩৫ শতাংশ দিতে হয়। তাহলে বাকি ৬৫ শতাংশ দিয়ে শতভাগ কাজ করা কীভাবে সম্ভব?”
এ বিষয়ে তথ্য জানতে বারবার উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলেও সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। আংশিক তথ্য দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) প্লাবন পাল বলেন, “টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের বিল সাধারণত দুই কিস্তিতে দেওয়া হয়। প্রথম কিস্তির পর মাঠ পর্যায়ে কাজ পরিদর্শন করে চূড়ান্ত বিল দেওয়া হয়। আমি নিজে মাঠে গিয়ে কাজগুলো দেখে ইউএনও স্যারের সঙ্গে কথা বলবো।”
এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসলাম উদ্দীন বলেন, “টিআর-কাবিখা-কাবিটা কাজ না হওয়ার প্রশ্ন আসে না। যেহেতু বিষয়টি আমাকে অবগত করা হয়েছে, তদন্ত কমিটি গঠন করে রিপোর্ট পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে এবং দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.