ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
শিউলি ঝরা সকালের স্নিগ্ধতা ছাপিয়ে ঝিনাইদহে এখন বইছে নির্বাচনী উত্তাপ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দামামা বেজে উঠেছে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের এই জনপদে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে এক বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে ঝিনাইদহের চারটি সংসদীয় আসনের ২১ জন প্রার্থীর মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো ‘ভোটের লড়াই’ আর প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণার উৎসব।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল্লাহ আল মাসউদ যখন প্রার্থীদের হাতে তাদের কাঙ্ক্ষিত প্রতীক তুলে দিচ্ছিলেন, তখন কক্ষজুড়ে বিরাজ করছিল এক উৎসবমুখর পরিবেশ। প্রতীক পেয়ে প্রার্থীরা তাদের সমর্থকদের নিয়ে মাঠে নেমে পড়েছেন; পোস্টার, লিফলেট আর জনসভার প্রস্তুতিতে এখন মুখর গ্রাম থেকে শহর।
ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা): এই আসনে রাজনীতির সমীকরণ মেলাতে লড়ছেন পাঁচজন। বিএনপির প্রার্থী মো. আসাদুজ্জামান লড়বেন ঐতিহ্যবাহী ‘ধানের শীষ’ নিয়ে। ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী এএসএম মতিউর রহমান পেয়েছেন ‘দাঁড়িপাল্লা’। এছাড়া এবি পার্টির মতিয়ার রহমান (ঈগল), বাসদ-মার্কসবাদীর শহিদুল এনাম পল্লব (কাঁচি) এবং জাতীয় পার্টির মনিকা আলম (লাঙ্গল) লড়াইয়ে শামিল হয়েছেন।
ঝিনাইদহ-২ (সদর-হরিণাকুণ্ডু): এই আসনে ছয় প্রার্থীর বহুমুখী লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী মো. আব্দুল মজিদ (ধানের শীষ), ১০ দলীয় জোটের আলী আজম মোহাম্মদ আবু বকর (দাঁড়িপাল্লা), বাসদ-এর আসসাদুল ইসলাম (মই), সিপিবি’র আবু তোয়াব (কাস্তে), ইসলামী আন্দোলনের মমতাজুর রহমান (হাতপাখা) এবং জাতীয় পার্টির সওগাতুল ইসলাম (লাঙ্গল) প্রতীক নিয়ে মাঠে নেমেছেন।
ঝিনাইদহ-৩ (কোটচাঁদপুর-মহেশপুর): সীমান্তঘেঁষা এই আসনে চার প্রার্থীর লড়াই। ধানের শীষ নিয়ে লড়ছেন মেহেদী হাসান, ১০ দলীয় জোটের অধ্যাপক মতিয়ার রহমান পেয়েছেন দাঁড়িপাল্লা। এছাড়া ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হাতপাখা এবং গণঅধিকার পরিষদের সুমন কবির ‘ট্রাক’ প্রতীক নিয়ে চমক দেখাতে চান।
ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ-সদর আংশিক): শিল্পাঞ্চল খ্যাত এই আসনে লড়াই জমবে ছয় প্রার্থীর মধ্যে। ধানের শীষের প্রার্থী রাশেদ খাঁন, ১০ দলীয় জোটের মাওলানা আবু তালেব (দাঁড়িপাল্লা) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ (কাপ-পিরিচ) একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী। এছাড়াও রয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের আব্দুল জলিল (হাতপাখা), গণফোরামের খনিয়া খানম (উদীয়মান সূর্য) এবং জাতীয় পার্টির এমদাদুল ইসলাম বাচ্চু (লাঙ্গল)।
প্রতীক বরাদ্দ শেষে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মাসউদ বলেন, “আমরা একটি উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য বদ্ধপরিকর। ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে তাদের পবিত্র আমানত ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেজন্য নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রতীক পাওয়ার পর প্রার্থীরা জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করলেও শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোটাররা কার গলায় জয়ের মালা পরান, তা দেখতে অপেক্ষা করতে হবে ভোটের দিন পর্যন্ত।

