Nabadhara
ঢাকাবুধবার , ২১ জানুয়ারি ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কৃষি
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলাধুলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. জাতীয়
  10. জেলার সংবাদ
  11. ঢাকা বিভাগ
  12. তথ্যপ্রযুক্তি
  13. ধর্ম
  14. প্রধান সংবাদ
  15. ফিচার
আজকের সর্বশেষ সবখবর

প্রার্থী অপছন্দে নিজের প্রতীকে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত শফিকুল ইসলাম রাহীর

চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
জানুয়ারি ২১, ২০২৬ ৫:২০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

দলের সাথে অভিমান করে চট্টগ্রাম-১৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি শফিকুল ইসলাম রাহী।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) তিনি প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে স্বতন্ত্র নির্বাচন করার কারণ জানান।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম–১৪ (চন্দনাইশ–সাতকানিয়া আংশিক) সংসদীয় আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীকে ঘিরে নানা বিতর্ক ও রাজনৈতিক অবস্থানগত অসংগতির কারণে আমি ব্যক্তিগতভাবে তাকে সমর্থন করতে পারিনি। সেই প্রেক্ষাপটেই শুরু থেকেই নিজের ভোট নিজের প্রতীকে প্রদানের দৃঢ় প্রত্যয়ে আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি।

স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আমি যে প্রতীক নির্বাচন করেছি, তা হলো মোটরসাইকেল। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে যাতায়াত ও যোগাযোগের সবচেয়ে কার্যকর ও জনপ্রিয় বাহন হিসেবে মোটরসাইকেল সাধারণ মানুষের জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এই প্রতীক মানুষের বাস্তব জীবন ও প্রয়োজনের প্রতিফলন ঘটায় বলেই আমার কাছে তা বিশেষভাবে অর্থবহ মনে হয়েছে।

দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, চট্টগ্রাম–১৪ আসনে ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী বিএনপির দুঃসময়ে—বিশেষ করে বিগত প্রায় ১৭–১৮ বছরের আওয়ামী লীগ সরকার আমলে—নিজেকে কখনো প্রকাশ্যে বিএনপির একজন কর্মী বা সমর্থক হিসেবে উপস্থাপন করেননি। বরং ওই সময়ে তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন এমপি, মন্ত্রী এবং প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন, যা তার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই ব্যাপক প্রশ্নের জন্ম দেয়।

আরও উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, যে সময়ে আমরা অনেকেই ভোট বর্জনের নীতি অনুসরণ করেছি, সে সময়ে তিনি আওয়ামী লীগের সমর্থনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে চন্দনাইশ উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং প্রায় দেড় মাস ওই পদে দায়িত্ব পালন করেন। অতীতে বিভিন্ন সময়ে তার দেওয়া বক্তব্যেও রাজনৈতিক অবস্থানের স্পষ্টতা পাওয়া যায়নি।

কখনো আওয়ামী লীগের সঙ্গে আজীবন থাকার অঙ্গীকার, কখনো লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদের সঙ্গে আজীবন থাকার ঘোষণা, আবার কখনো জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রশংসামূলক বক্তব্য—এসব পরস্পরবিরোধী অবস্থান একজন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীর রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

পক্ষান্তরে আমি বিগত ১৭–১৮ বছর ধরে দলের সকল আন্দোলন-সংগ্রামে সরাসরি মাঠে সক্রিয় ছিলাম। এ সময়ে আমি একাধিক মামলা মোকাবিলা করেছি, কারাবরণ করেছি। নিজ এলাকা থেকে শুরু করে উপজেলা, জেলা ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের সকল কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের সংগঠিত করে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছি। দলীয় সহযোদ্ধাদের ওপর নেমে আসা হামলা, মামলা, নির্যাতন ও কারাবরণের সময় আমি তাদের পাশে ছিলাম—সুখ-দুঃখের সকল মুহূর্তে।

ধানের শীষ প্রতীক আমার আবেগ, ভালোবাসা ও রাজনৈতিক আদর্শের প্রতীক হওয়া সত্ত্বেও, এই বিতর্কিত প্রার্থীকে ভোট দেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, রাজনীতিতে প্রতীক যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি প্রতীকের বাহকের সততা, ত্যাগ ও রাজনৈতিক ধারাবাহিকতা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

বিএনপির চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের প্রতি আমার পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে। আমার বিশ্বাস, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি উপলব্ধি করবেন যে চট্টগ্রাম–১৪ সংসদীয় আসনে প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে একটি ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

আমি আশাবাদী, গণতন্ত্র ও ন্যায়ভিত্তিক রাজনীতির স্বার্থে ভবিষ্যতে এই ধরনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হবে এবং তৃণমূলের ত্যাগী, পরীক্ষিত ও আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রাখা নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।