মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের বিপক্ষে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন যশোরের মনিরামপুর থানা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব অ্যাডভোকেট শহীদ মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বুধবার রাতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে তাঁর বহিষ্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়।
বহিষ্কারের খবর ছড়িয়ে পড়লে বুধবার রাতে মনিরামপুর থানা বিএনপির কার্যালয়ে অনুসারীদের সঙ্গে অবস্থানরত শহীদ ইকবাল কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ সময় তিনি নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “দল আমাকে বহিষ্কার করলেও আমি বিএনপি ছাড়ব না। পদ-পদবি না থাকলেও আমি বিএনপিতেই থাকব। এই আসনটি বিএনপির জন্য রক্ষা করতে চাই। নির্বাচনে জয়ী হয়ে আবার আপনাদের নিয়ে দলে ফিরব।”
তিনি আরও বলেন, “টেবিলের ওপর থেকে যখন ধানের শীষের প্রতীক সরিয়ে রাখা হলো, তখন আমার বুক ফেটে কান্না এসেছে। দলের জন্য রাত-দিন পরিশ্রম করেছি, কিন্তু আমাকে মূল্যায়ন করা হয়নি।” উপস্থিত সমর্থকেরা তাঁকে সান্ত্বনা দিয়ে পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
মনিরামপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাই বলেন, “মনিরামপুরে বিএনপির নেতা-কর্মীরা বারবার জোটের শরিক প্রার্থীদের কাছে পরাজিত হচ্ছে। আওয়ামী লীগ শাসনামলে আমাদের ১২ জন নেতা-কর্মী নিহত হয়েছেন, শহীদ ইকবালের বাড়িতে ১০ বার হামলা হয়েছে। আমরা মামলায় জর্জরিত। এবার জোটের হাত থেকে ধানের শীষ উদ্ধারের সংগ্রামে নেমেছি।” তিনি আরও বলেন, শহীদ ইকবাল নির্বাচিত হলে তাঁর হারানো পদ পুনরুদ্ধারের সুযোগ তৈরি হবে।
দীর্ঘদিন ধরে মনিরামপুর থানা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসা শহীদ ইকবাল হোসেনকে প্রাথমিকভাবে যশোর-৫ (মনিরামপুর) আসনে বিএনপির মনোনয়ন দেওয়া হলেও পরে তা পরিবর্তন করে জোটের শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের (একাংশ) সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রশীদ আহমদকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শহীদ ইকবাল স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন। বুধবার তিনি কলস প্রতীক বরাদ্দ পান।
উল্লেখ্য, শহীদ ইকবাল হোসেন ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আওয়ামী লীগের প্রার্থী প্রয়াত খান টিপু সুলতানের কাছে পরাজিত হন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে প্রথমে তাঁকে মনোনয়ন দিলেও পরে তা পরিবর্তন করে জোটের শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী মুফতি ওয়াক্কাসকে দেওয়া হয়। মুফতি ওয়াক্কাসের মৃত্যুর পর তাঁর বড় ছেলে রশীদ আহমদ জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হন এবং এবারের নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রচারণা শুরু করেছেন।

