গিয়াস উদ্দিন মিয়া, গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি
বরিশালের গৌরনদী প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে উপজেলার টরকী বন্দরের অসহায় ব্যবসায়ী রিপন মিত্র অভিযোগ করেছেন, তার দাদা মনোরঞ্জন মিত্র যখন জমির মালিক, তখন তার বাবা ব্রজ বিলাস মিত্রের কাছ থেকে ওই জমির দলিল গ্রহণ করেছেন চাচা নারায়ন মিত্র।
ভুল আর অসঙ্গতিতে ভরা গত ৩৯বছর পূর্বের এমন একটি দলিল দেখিয়ে গত ৮মাস ধরে তাদের দুই ভাইয়ের পৈত্রিক সম্পত্তি দখলের পাঁয়তারাসহ তাদের কেনোনাভাবে হয়রানি করাচ্ছেন ওই চাচা।
এ ঘটনায় অতিষ্ঠওই দুই ভাই তাদের চাচার হয়রানির হাত থেকে মুক্তির জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আইনি সহযোগিতা চেয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকালে বরিশালের গৌরনদী প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলনটির আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে দেয়া লিখিত বক্তব্যে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওই অসহায় ব্যবসায়ী বলেন, আমার দাদা মনোরঞ্জন মিত্র উপজেলার টরকী বন্দর সংলগ্ন ৬৩নং সুন্দরদী মৌজায়এ কটি বাড়িসহ প্রায় ৭-৮ একর জমি রেখে ১৯৯০ সালে মারা যান। এরপর তার ওয়ারিশ থাকেন তিন পুত্র।
এরা হলেন, আমার বাবা ব্রজ বিলাস মিত্র ও আমার দুই চাচা স্বপন কুমার মিত্র এবং নারায়ণ চন্দ্র মিত্র। দাদা মনোরঞ্জন মিত্র মারা যাওয়ার পর তার রেখে যাওয়া ৭-৮ একর জমি আমার বাপ-চাচাদের মধ্যে ভাগ বাটোয়ারা হয়। এক পর্যায়ে বাপ চাচারা মিলে ওই মৌজার ১০৪৫ নং খতিয়ানের ১৯৩৪নং দাগভূক্ত পৈত্রিক বাড়ির ৮১ শতাংশ জমি রেখে বাড়ির বাইরের বাকি সব জমি বিক্রি করে দেন। গত প্রায় ৩০ বছর আগে আমাদের মেঝো চাচা স্বপন কুমার মিত্র বসত বাড়িতে তার পাওনা ২৭শতাংশ জমি বিক্রি করে দিয়ে ভারতে চলে যান।
আর ২০ বছর আগে ছোট চাচা নারায়ণ চন্দ্র মিত্র তার ভাগের ২৭শতাংশ জমি থেকে ২২ শতাংশ জমি বিক্রি করে দেন। বাকি ৫ শতাংশের উপরে তার বসত ঘর রয়েছে। আমার বাবার ভাগের জমিতে থেকে যায় দাদার আমলের বসত ঘর মন্দির ও শ্মশান।
আমার বাবা ব্রজ বিলাস মিত্র মারা যায় ১৯৯৮ সালে। এরপর আমরা দুই ভাই কিছু জমি বিক্রি করি। ব্যবসাবৃদ্ধির জন্য বাকি জমি ইসলামী ব্যাংক টরকী বন্দর শাখায় বন্ধক রেখে আমরা ১০লক্ষ টাকাঋণ করি।
এর কিছুদিন পর আমার মা ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে পড়েন। ফলেক্যান্সার আক্রান্ত মায়ের চিকিৎসা করাতে গিয়ে আমরা দুই ভাই রিপন মিত্র ও সুমন মিত্র ব্যাংক ঋণের পাশাপাশি এনজিও ও স্থানীয় মহাজনদের কাছ থেকে উচ্চ সুদে টাকা ঋণ ও ধার করি। এক পর্যায়ে ব্যাংক লোনের সুদ, এনজিও ঋনের সুদ এবং মহাজনদের কাছ থেকে আনা ধারের টাকার সুদ মিলে আমরা ঋণের চাপের জর্জরিত হয়ে পড়ি। ব্যাংক আমাদের বাড়ি নিলামে উঠানোর প্রস্তুতি নেয়।
উপায় না পেয়ে তখন আমরা আমাদের বসতবাড়ির কিছু জমি বিক্রির সিদ্ধান্ত নেই। ঠিক সেই মুহূর্তে গত ৮মাস আগে একদিন রাতে আমার ছোট চাচা নারায়ন মিত্র আমাকে ডেকে একটি দলিলের ফটোকপি দেয়। যার দলিল নং ৫৯৬/৮৬তারিখ ১৬/২/১৯৮৬ ওই দলিলে উল্লেখ রয়েছে আমার বাবা ব্রজ ও বিলাস মিত্র চাচা নারায়ণ মিত্রের কাছে ১০ শতাংশ জমি বিক্রি করেছেন।
ওই দলিলে তফসিল বর্ণিত ভূমির যে বর্ণনা দেয়া হয়েছে সেখানে লেখা রয়েছে ১০৪৫ নং খতিয়ানে ১৯৩৪ নং দাগ, তারপরের তফসিলে উল্লেখকরা হয়েছে ১০৪৫ নং খতিয়ানে১৯৪৩ নং দাগের ১০ শতাংশ জমিআমার বাবা বিক্রি করেছেন।তফসিলে বর্ণিত ওইভূমি৭৭জি(১ী-১) ৭৫-৭৬সালের হুকুম দখল মোতাবেকআমার বাবা ব্রজ বিলাস মিত্রের নামেরেকর্ড রয়েছে।মূলতওই রেকর্ডটি আমার দাদার নামের রেকর্ডকৃত।দাদা মনোরঞ্জন মিত্র তখনও জীবিত।
১৯৯০ সালে তিনি মারা যান।রিপন মিত্র প্রশ্ন রাখেন,দাদা জীবিত থাকতে১৯৮৬ সালে কি করে আমার বাবা,দাদারনামে রেকর্ডকৃত জমি বিক্রি করেন।আমার বাবা তো তখন ওই জমির মালিকই নন।
তফসিলের অন্যএক জায়গায় উল্লেখ করা হয়েছে সাব কবলা দলিল মূলেআমার বাবা বিক্রি করেছেন।অথচ ওই দলিলে পীঠ দলিলের কোন নম্বর উল্লেখ করানেই।
দলিলটিতেলেখক দেখানো হয়েছে দুজনকেএকজন হলেন শ্রী জিতেন্দ্র নাথ সরকার লাইসেন্স নং২১২২ওপর লেখক হলেন স্বপন সরকার লাইসেন্স নং২২৭৬। রিপন মিত্র বলেন ওটা আমার বাবার দেয়া দলিল নয়।ছোটচাচা নারায়ণ মিত্র একটি খাড়া দলিলকরেআমাদেরকে নানা ভাবেহয়রানি করছে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.