মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি
মাগুরা জেলার মহম্মদপুর উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামে নিবন্ধিত সামাজিক সংগঠন “লক্ষ্মীপুর উদয়ন সংঘ”- এর নামে থাকা সরকারি জমি বিক্রি ও বিক্রয়লব্ধ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ নিয়ে বেশ কয়েক টি জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি ভিত্তিতে একজন প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়।
তবে প্রশাসক নিয়োগের পরও বাস্তবে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না হওয়ায় তাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংগঠনের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একাধিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ না হলে হয়তো প্রশাসক নিয়োগের উদ্যোগও নেওয়া হতো না। সংবাদ প্রকাশের পরেই জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর প্রশাসক নিয়োগে বাধ্য হয়। কিন্তু দায়িত্ব গ্রহণের পর সংশ্লিষ্ট প্রশাসক অদ্যবদি কোন কার্যক্রম গ্রহণ না করায় প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় গত ২৯ জুলাই ২০২৫ তারিখে বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে একাধিক অনলাইন নিউজ পোর্টালেও বিষয়টি ধারাবাহিকভাবে উঠে আসে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে লিখিত নির্দেশনায় মহম্মদপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুর রবকে “লক্ষ্মীপুর উদয়ন সংঘ” এর প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
লিখিত নির্দেশনায় বিক্রিত সরকারি জমি পুনরুদ্ধার, জাল রেজুলেশনের মাধ্যমে সংঘটিত অনিয়মের তদন্ত, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সংগঠনের আর্থিক নিরীক্ষা সম্পন্ন করার কথা উল্লেখ থাকলেও স্থানীয়দের দাবি বাস্তবে এসব নির্দেশনার কোনো দৃশ্যমান বাস্তবায়ন হয়নি।
অভিযোগকারীদের ভাষ্যমতে, প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর বিষয়টি এগিয়ে নেওয়ার পরিবর্তে তিনি কার্যত নীরব ভূমিকা পালন করছেন। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কোনো নোটিশ, তদন্ত কমিটি কিংবা আইনগত পদক্ষেপের উদ্যোগ এখনো দৃশ্যমান নয়। এতে করে পুরো ঘটনাটি ধীরে ধীরে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে- এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সংগঠনের একাধিক সদস্য অভিযোগ করেন, জাল স্বাক্ষরের মাধ্যমে রেজুলেশন তৈরি, সরকারি সম্পত্তি বিক্রি এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থ আত্মসাতের মতো গুরুতর অভিযোগ থাকার পরও প্রশাসকের পক্ষ থেকে কোনো কঠোর অবস্থান না নেওয়ায় বিষয়টি আরও সন্দেহজনক হয়ে উঠেছে।
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সৈয়দ মাসুদ মীর বলেন, একাধিক জাতীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসক নিয়োগ হওয়ায় আমরা আশাবাদী হয়েছিলাম। কিন্তু এতদিনেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় মনে হচ্ছে বিষয়টি ইচ্ছাকৃতভাবে আড়াল করা হচ্ছে।
প্রশাসকের দায়িত্ব ছিল সরকারি সম্পত্তি রক্ষা করা, কিন্তু বাস্তবে তার উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে।
স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও বলেন, প্রশাসক যদি নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতেন, তাহলে এতদিনে জমি উদ্ধারে অন্তত প্রাথমিক কোনো পদক্ষেপ দেখা যেত। অথচ বাস্তবে কোনো অগ্রগতি না থাকায় তাঁর ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন বাড়ছে।
এ বিষয়ে প্রশাসক ও মহম্মদপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুর রব বলেন, “ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
তবে কবে নাগাদ তদন্ত বা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে- এ বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা উল্লেখ করতে পারেননি।
মাগুরা জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো: জাকির হোসেন বলেন, “লক্ষ্মীপুর উদয়ন সংঘের পক্ষে লিখিত অভিযোগ এবং সরেজমিনে তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতেই প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া আছে।"
এদিকে স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নিলে সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারের বিষয়টি আরও জটিল হয়ে পড়বে এবং অভিযুক্তরা দায়মুক্তির সুযোগ পেতে পারে।বিষয়টি'র প্রতি সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী মহল।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.