Nabadhara
ঢাকাশুক্রবার , ২৩ জানুয়ারি ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কৃষি
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলাধুলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. জাতীয়
  10. জেলার সংবাদ
  11. ঢাকা বিভাগ
  12. তথ্যপ্রযুক্তি
  13. ধর্ম
  14. প্রধান সংবাদ
  15. ফিচার
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কেন্দুয়ায় বোর্ড ও ইউএনওর নির্দেশ অমান্য করে টেস্টে অকৃতকার্যদের এসএসসি ফরম পূরণের অভিযোগ

Link Copied!

মাঈন উদ্দিন সরকার রয়েল,কেন্দুয়া (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি

কেন্দুয়া উপজেলায় মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নৈতিকতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষা বোর্ডের সুস্পষ্ট নির্দেশনা এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সরাসরি আদেশ অমান্য করে টেস্ট পরীক্ষায় একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ করানোর অভিযোগে শিক্ষা প্রশাসনে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, আসন্ন এসএসসি পরীক্ষার প্রাক্কালে কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রিফাতুল ইসলাম স্পষ্টভাবে নির্দেশনা দেন—নির্বাচনি (টেস্ট) পরীক্ষায় এক বিষয়ে অকৃতকার্য হলেও কোনো শিক্ষার্থীকে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের সুযোগ দেওয়া যাবে না। এই নির্দেশনা ছিল শিক্ষা বোর্ডের নীতিমালার আলোকে এবং শিক্ষার মান ও শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে।

কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। অভিযোগ রয়েছে, উপজেলার কয়েকটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা যোগসাজশে ও নৈতিকতা উপেক্ষা করে নির্বাচনি পরীক্ষায় তিন বিষয়ে অকৃতকার্য এমন শিক্ষার্থীদেরও গোপনে এসএসসি ফরম পূরণ করিয়েছেন। অথচ নির্বাচনি পরিক্ষায় অকৃতকার্য বহু শিক্ষার্থীকে সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

এতে করে প্রশ্ন উঠেছে— বোর্ডের লিখিত নির্দেশনা ছাড়াই অকৃতকার্যদের ফরম পূরণ কেন অবৈধ গণ্য হবে না? কেন কিছু নির্দিষ্ট শিক্ষার্থীকে বিশেষ সুবিধা দিয়ে বাকিদের বঞ্চিত করা হলো? এই বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্তের পেছনে কার স্বার্থ কাজ করেছে? এই পরিস্থিতিতে নির্বাচনি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়ে ফরম পূরণের সুযোগ না পাওয়া অন্যান্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

অনেক অভিভাবক প্রকাশ্যে অভিযোগ করছেন—একই অপরাধে কেউ সুযোগ পেলেও কেউ পেল না, যা স্পষ্টতই প্রশাসনিক বৈষম্য ও ন্যায়বিচার লঙ্ঘনের শামিল।

এ বিষয়ে একাধিক ছাত্র-অভিভাবক জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আদালতে আইনি লড়াইয়ের জন্য লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে চলমান রয়েছে।

পাশাপাশি আগামী ২৫ জানুয়ারি রবিবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট সুনির্দিষ্ট প্রমাণসহ লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হবে বলেও নিশ্চিত করেছেন এক অভিভাবক।

এই প্রেক্ষাপট চলমান থাকাকালীন সময়ের মধ্যেই আগামী ২৬ জানুয়ারি কেন্দুয়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সঙ্গে কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাতুল ইসলামের সভাপতিত্বে এক মতবিনিময় সভা ডেকেছেন কেন্দুয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো:শফিকুল ইসলাম বারি। এই মত বিনিময়সভাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

কারণ, এই সভায় নির্বাচনি পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের এসএসসি ফরম পূরণ সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের আইনগত বৈধতা, প্রশাসনিক দায় এবং সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতা নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

‎বিশ্লেষকদের মতে, এই সভা শুধু একটি মতবিনিময় নয়—বরং এটি হতে পারে শিক্ষা ব্যবস্থায় অনিয়ম রোধ, বৈষম্যের অবসান এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পরীক্ষা।

‎এখন দেখার বিষয়, শিক্ষা বোর্ডের নীতিমালা ও উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনার আলোকে এই অনৈতিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয় কিনা—নাকি পুরো বিষয়টি আবারও ধামাচাপা পড়ে যাবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।