তাপস কুমার মজুমদার, স্টাফ রিপোর্টার, ভোলা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোলা-২ (দৌলতখান-বোরহানউদ্দিন) আসনে জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ ফজলুল করিম মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করায় প্রতারণার অভিযোগ এনে নিজেই নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন এলডিপির প্রার্থী মোকফার উদ্দিন চৌধুরী।
আজ রবিবার (২৫জানুয়ারী) দুপুরে তিনি নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
অপরদিকে রবিবার দুপুরে এলডিপির ভোলা জেলা শাখার পক্ষ থেকে ভোলা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে দলটির জেলা সভাপতি মো. বশির আহমেদ লিখিত বক্তব্যে জানান, ভোলা-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ ফজলুল করিম দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ঠা, সততা ও ত্যাগের সঙ্গে রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন। তার এই নিরলস প্রচেষ্টা ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতাকে সম্মান জানিয়ে ১০ দলীয় জোটের ঐক্য অটুট রাখার লক্ষ্যে এলডিপির প্রার্থী স্বেচ্ছায় নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ব্যক্তিগত প্রাপ্তির চেয়ে জোটের বৃহত্তর স্বার্থই আমাদের কাছে অগ্রাধিকার। ১০দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ মোকফার উদ্দিন চৌধুরীর এই সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক ত্যাগ, দায়িত্ববোধ ও সৌজন্যের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বলে দাবি করা হয়।
তবে সংবাদ সম্মেলনে এলডিপির প্রার্থী মোকফার উদ্দিন চৌধুরী উপস্থিত না থাকায় প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তার পক্ষে জেলা সভাপতির স্বাক্ষর করেন ও লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।
এলডিপির প্রার্থী মোকফার উদ্দিন চৌধুরী মুঠোফোনে বলেন, গত ১৫জানুয়ারী ১০দলীয় জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভোলা-২ আসন এলডিপিকে দিয়েছে। সেই অনুযায়ী জামায়াত প্রার্থীর ১৬ তারিখ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা উচিত ছিলো। কিন্তু মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন পর্যন্ত তাদের প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি।
এমনকি ২১ তারিখ তারা প্রতিকও বরাদ্দ নিয়েছেন। কেন্দ্রীয়ভাবে যদি সমর্থন না থাকতো তাহলে জামায়াতের প্রার্থী এমনটি করতে পারে না। প্রার্থী যেহেতু মনোনয়ন প্রত্যাহার না করলেও দল থেকেও রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়ন প্রত্যাহারের জন্য চিঠি দিতে পারতো, কিন্তু তারা সেটি করেনি। এটাই তো আমাদের সাথে একটা প্রতারণা।
এখন পর্যন্ত তাদের প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দেই দিচ্ছি বলে আমাদেরকে ঘুরাচ্ছে। উল্টো জামায়াতে ইসলামীর লোকজন আমার বিরুদ্ধে বিএনপি থেকে টাকা নেওয়ার মিথ্যা প্রচার করছে। এখন আমার মানসম্মানের বাঁচানোর জন্য নিজেই তাদেরকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছি। এটি করা ছাড়া আমার আর কোনো উপায় ছিলো না।
এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর ভোলা জেলা সেক্রেটারী মাওলানা হারুন অর রশিদ বলেন, আমাদের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত ছিলো ভোলা-২ আসন থেকে আমরা প্রার্থীতা প্রত্যাহার করবো। আজ (রবিবার) বিকেল ৩টায় সংবাদ সম্মেলন করে এলডিপি প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়টি আমরা ঘোষণা দিবো। কিন্তু সেখানকার কর্মী-সমর্থকদের ভাষ্য, তারা আমাদের সাংবাদিক সম্মেলন মানবে না।
যেহেতু মনোনয়নপত্র দাখিল করেছে এবং প্রত্যারাও করে নাই, তাই তারা প্রতিক থাকলে মাঠে কাজও করবে এবং ভোটও দিবে। এর পরও আমরা কেন্দ্রের কথা মেনে জেলা ও উপজেলা নেতৃবৃন্দ প্রার্থীতা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এর মধ্যে আমরা খবর পেলাম তারাই (এলডিপি) নাকি প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে আমাদের প্রার্থীকে সমর্থন দিবে। এলডিপি না করলেও আমার প্রার্থীতা প্রত্যাহার করতাম।
তিনি আরো জানান, গত ২০ জানুয়ারী বিকেলে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের বিষয়টি প্রার্থী ফজলুল করিমকে জানিয়েছি, কিন্তু তিনি বিকেল শেষ সময় পর্যন্ত মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে আসেননি। এর কারেন দল তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিবে বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, গত ১৫ জানুয়ারী জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে এলডিপিকে ভোলা-২ আসনসহ সাতটি আসন ছেড়ে দেওয়া হয়। যদিও এর আগেও ভোলা-২ আসনে এলডিপি ও জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
পরে আসনটি থেকে জামায়াতের প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যহারের কথা থাকলেও সেটি তিনি করেননি। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় বেশ আলোচনা ও সমালোচনা তৈরী হয়।
পরবর্তীতে ২৪ জানুয়ারী বোরাহানউদ্দিন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মাকুসুদর রহমান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী মোহাম্মদ ফজলুল করিম প্রার্থীতা প্রত্যাহরের ঘোষণা দেন। একই সাথে ২৪ জানুয়ারী বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা থাকলেও তার মায়ের মৃত্যুজনিত কারনে সংবাদ সম্মেলনটি স্থগিত করা হয়।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.