জয়পুরহাট প্রতিনিধি
জয়পুরহাটের কালাইয়ে কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এক হিন্দু নারীর বাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে আব্দুর রহিম নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে উপজেলার পুনট ইউনিয়নের হাটশেখা হিন্দু পল্লীতে এই ঘটনা ঘটে। রবিবার সকালে ভুক্তভোগী নারী থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, শনিবার বিকেলে হাটশেখা হিন্দু পল্লীর মনোরঞ্জন বর্মণের স্ত্রী রঞ্জনা বর্মণ মাঠের মধ্যে গরুর গোবরের ঘুটি নিতে গেলে পাশের গ্রামের আব্দুর রহিম তার হাত ধরে টানা-হেঁচড়া করতে থাকে। রঞ্জনা চিৎকার করতে করতে ঝাড় দিয়ে ২–৩টি আঘাত করলে রহিম ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
পরবর্তীতে রাত সাড়ে ৮টার দিকে আব্দুর রহিম ১১–১২ জনকে সঙ্গে নিয়ে রঞ্জনার বাড়িতে হামলা চালিয়ে টিনের বেড়া ও ঘরের ছাউনি ভেঙে ফেলে এবং ভয়ভীতি সৃষ্টি করে। স্থানীয়রা জানান, হিন্দু পরিবারটি খুবই ভীত এবং সারারাত কেউ ঘুমাতে পারেনি।
প্রতিবেশীরা বলেন, রহিম দীর্ঘদিন ধরে রঞ্জনাকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। অন্যদিকে মুদিদোকানী জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, রহিম এলাকায় আগে থেকেই চোর হিসেবে পরিচিত। রঞ্জনার প্রতিবেশী আসমা বেগম বলেন, “লোকজন বেশি আসায় তারা বাড়ি থেকে চলে গেছে, নাহলে পরিবারকে মারার হুমকি দিয়েছিল।”
রঞ্জনা বর্মণ বলেন, “সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি। স্কুলে যাওয়ার পথে রহিম আমাকে উত্ত্যক্ত করতো। শনিবার মাঠে তিনি আবার হেনস্থা করতে আসেন, এরপর রাতে লোকজন নিয়ে এসে বাড়িতে ভাঙচুর ও হুমকি দিয়েছে।”
অভিযুক্ত আব্দুর রহিম দাবি করেছেন, “আমাকে ঝাড় দিয়ে আঘাত করার কারণে বিচার নিতে রাতের হামলা করেছি। ভাঙচুর ও ভয়ভীতির অভিযোগ সত্য নয়।”
কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

