ভালুকা(ময়মনসিংহ)প্রতিনিধি
ময়মনসিংহের ভালুকায় নির্বাচনি প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় রোববার বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভালুকা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার ভরাডোবা ইউনিয়নের নিশিন্দা বাজারে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ মোর্শেদ আলমের পক্ষে লিফলেট বিতরণকে কেন্দ্র করে প্রথমে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ফখরুদ্দিন আহম্মেদ বাচ্চুর সমর্থকদের সঙ্গে মোর্শেদ আলমের সমর্থকদের সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন।
এরই ধারাবাহিকতায় সন্ধ্যার পর ভালুকা বাসস্ট্যান্ড ও হবিরবাড়ি এলাকায় দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এর জবাবে নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ মোর্শেদ আলমের ব্যক্তিগত কার্যালয় এবং তার এক সমর্থকের অফিসেও আগুন দেওয়া হয়।
অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পুরো এলাকা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। আতঙ্কে ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে দেন এবং যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষের কারণে ভালুকার গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকাগুলো কার্যত অচল হয়ে পড়ে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ মোর্শেদ আলম অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনি প্রচারণার সময় তার ওপর পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ফখরুদ্দিন আহম্মেদ বাচ্চুর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। থেমে থেমে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছে। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

