মেহেরপুর প্রতিনিধি
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “বিগত কোনো সরকারই বলতে পারবে না—তাদের শাসনামলে দুর্নীতি হয়নি, জনগণের সম্পদ লুটতরাজ হয়নি কিংবা ব্যাংক ডাকাতি হয়নি। তারা এটাও বলতে পারবে না যে তারা আমাদের শিশুদের ভবিষ্যৎ নিরাপদ করতে পেরেছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি যদি জাতি আমাদের ওপর দায়িত্ব অর্পণ করে, তাহলে আল্লাহর কসম—জনগণের সম্পদের ওপর আমরা হাত দেব না। আমরা জনগণের চৌকিদার হয়ে আমানত রক্ষা করবো।”
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে মেহেরপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াত মনোনীত ও ১০ দল সমর্থিত মেহেরপুর-১ আসনের প্রার্থী মাওলানা মো. তাজউদ্দীন খান এবং মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনের প্রার্থী মো. নাজমুল হুদার সমর্থনে এ জনসভার আয়োজন করা হয়।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সম্পদের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি হতে দেব না। প্রতিবছর আয়-ব্যয়ের হিসাব জাতির সামনে তুলে ধরা হবে। চাঁদাবাজদের পুনর্বাসন নয়, বরং কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে—যাতে তারা চাঁদাবাজিতে জড়াতে না বাধ্য হয়।”
তিনি আরও বলেন, “মেহেরপুর ছোট জেলা, মাত্র তিনটি উপজেলা। এখানে মানুষ মানুষকে চেনে। অথচ এই জেলাও চাঁদাবাজদের দখলে চলে গেছে। জনগণের রায়ে আমরা ক্ষমতায় এলে এসব মানুষের দায়িত্ব নেব, তাদের কাজ দেব।”
নির্বাচন প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, “‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি, ‘না’ মানে গোলামি। আমাদের প্রথম ভোট হবে ‘হ্যাঁ’ ভোট। সবাই ‘হ্যাঁ’ ভোট নিশ্চিত করলে দেশ বিজয়ী হবে। ভোটের দিন কেন্দ্র পাহারা দিতে হবে। কেউ ভোট ডাকাতির চেষ্টা করলে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।”
গত ৫৪ বছরের শাসনব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি বলেন, “এই সময়ে দেশে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা হয়নি। তরুণ সমাজ মাদক ও নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছে। দায়িত্ব পেলে দেশকে ফুলের মতো সাজাবো, যাতে মানুষ দেশ নিয়ে গর্ব করতে পারে।”
চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “আমরা চাঁদাবাজি করবো না, দুর্নীতি করবো না এবং দুর্নীতিকে প্রশ্রয়ও দেব না। মানুষ ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে—কাকে ভোট দেবে।”
বেকার ভাতা প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা বেকার ভাতা দেব না—রাষ্ট্রের টাকা থাকলেও না। ভাতা দিলে বেকারত্ব কমে না, বরং বাড়ে। আমরা ভাতা নয়, কাজ দেব।”
তিনি আরও বলেন, “তরুণদের শক্তিতেই দেশ এগিয়ে যাবে। সেই লক্ষ্যেই যুব সমাজকে প্রস্তুত করা হচ্ছে।”
জনসভা শেষে জামায়াত আমির মেহেরপুরের দুইটি আসনের প্রার্থীদের হাতে দলীয় নির্বাচনি প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ তুলে দেন এবং ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
জনসভায় মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মো. তাজউদ্দীন খানের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন—মেহেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও গাংনী উপজেলা জামায়াতের আমীর মো. নাজমুল হুদা, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা, কেন্দ্রীয় অধিকার পরিষদের সেক্রেটারি আমিরুল ইসলাম, এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য ইঞ্জিনিয়ার সোহেল রানা, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. ইকবাল হোসাইন প্রমুখ।

