মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি
নওগাঁর মান্দা থানার পুলিশের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন মামলায় আদালতের সমন গায়েব করার অভিযোগ উঠেছে। সমন না পাওয়ায় আসামিরা নির্ধারিত তারিখে আদালতে হাজির না হওয়ায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে।
উপজেলার রামনগর ও বড়পই গ্রামের দুটি ঘটনায় ভুক্তভোগীরা পুলিশকে ‘সমন বাণিজ্যের’ অভিযোগ করেন। তাদের দাবি, বাদীপক্ষের সঙ্গে যোগসাজশ করে পুলিশ সমন গোপন রাখার মাধ্যমে তাদের হয়রানি করছে। ঘটনাগুলো এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।
রামনগর গ্রামের ভুক্তভোগী মিঠু কুমার প্রামাণিক বলেন, দুর্গাপূজার দশমীর দিন হরিতলা মণ্ডপে আরতি খেলার সময় প্রতিবেশী দোলন দাসের সঙ্গে শুভ কুমারের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের মধ্যস্থতায় বিষয়টি গত বছরের ১৮ অক্টোবর মীমাংসা হয়। তবে মীমাংসার প্রায় চার মাস পর, গত শনিবার রাতে পুলিশ তাঁর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে প্রতিবন্ধী শুভ কুমার ও তাঁকে গ্রেপ্তার করে। মিঠু কুমার অভিযোগ করেন, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সোহেল রানা বাদীপক্ষের সঙ্গে যোগসাজশ করে সমন গায়েব করেছেন। এতে তাঁরা আদালতে হাজির হতে না পারায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়।
অন্যদিকে বড়পই গ্রামের ভুক্তভোগী কামাল হোসেন বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত ছাড়াই প্রসিকিউশন মামলা দায়ের করা হয়। সমন গোপন রেখে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরে গত শনিবার রাতে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায়। রোববার তিনি জামিন পান। কামাল হোসেন অভিযোগ করেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁকে হয়রানি করা হয়েছে।
নওগাঁ জজকোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) শাহরিয়ার শিমু বলেন, “প্রসিকিউশন মামলায় আদালতের জারি করা সমন পুলিশকে পাঠানোর কথা। এটি না হলে তা বেআইনি। বিষয়টি সঠিকভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।”
মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেএম মাসুদ রানা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি আদালতে খোঁজখবর নিতে বলেন এবং মোবাইল ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।
এ বিষয়ে সহকারী উপপরিদর্শক সোহেল রানা বলেন, “ওসি স্যার সব জানেন।” এরপর তিনি আর কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

