ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
‘আমরা এমন এক বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে একজন নারী চলবেন সর্বোচ্চ মর্যাদায়। কোনো লম্পট যদি আমাদের মা-বোনদের দিকে কুদৃষ্টিতে তাকানোর সাহস করে, তবে সেই চোখ উপড়ে ফেলা হবে।’
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ঝিনাইদহের ঐতিহাসিক ওয়াজির আলী হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় এভাবেই হুঙ্কার দিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডাক্তার শফিকুর রহমান।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আয়োজিত এই সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আগামীর বাংলাদেশের এক বৈপ্লবিক রূপরেখা পেশ করেন।
লুটপাটকারীদের প্রতি কড়া হুঁশিয়ারি
বিগত সরকারের দুঃশাসনের স্মৃতি চারণ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “যারা জনগণের পকেট কেটেছে, চাঁদাবাজি করেছে এবং রাষ্ট্রের সম্পদ বিদেশে পাচার করেছে, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। ইনশাআল্লাহ, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে লুটকারীদের পেট থেকে জনগণের সম্পদ বের করে আনা হবে।”
দুর্নীতিবাজদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “দুর্নীতি ছাড়ুন, নয়তো রাস্তায় ভিক্ষা করুন। চাঁদাবাজির চেয়ে ভিক্ষা করাও সম্মানের।”
বেকারত্ব দূরীকরণ ও উন্নয়নের অঙ্গীকার
জনসভায় জামায়াত আমির বেকার সমস্যার স্থায়ী সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন: বেকারদের কেবল ভাতা দিয়ে আমরা অপমানিত করতে চাই না, বরং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যোগ্যতার স্বীকৃতি ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে।
প্রতিটি জেলায় আধুনিক মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হবে এবং দক্ষ জনবল দিয়ে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে। রাস্তার বেহাল দশা দূর করে টেকসই অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।
‘১২ তারিখ হবে ব্যালট বিপ্লব’ উপস্থিত জনসমুদ্রের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “এ দেশের ছাত্র-জনতা চব্বিশের বিপ্লবে রক্ত দিয়েছে। এখন সময় এসেছে উন্নয়নের বিপ্লবের। আগামী ১২ তারিখ ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে ইনসাফ কায়েম করতে হবে।
বক্তব্য শেষে ডা. শফিকুর রহমান ঝিনাইদহ জেলার চারটি সংসদীয় আসনে ১০ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং তাদের হাতে নির্বাচনী প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ তুলে দেন। প্রার্থীরা হলেন:
ঝিনাইদহ-১: এএসএম মতিউর রহমান
ঝিনাইদহ-২: মাওলানা আলী আজম মো. আবু বকর
ঝিনাইদহ-৩: অধ্যাপক মতিয়ার রহমান
ঝিনাইদহ-৪: মাওলানা আবু তালিব
জনস্রোতে স্থবির ঝিনাইদহ শহর বিকাল
হওয়ার আগেই ঝিনাইদহ শহর লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে।
দূর-দূরান্ত থেকে আসা নেতাকর্মীদের ভিড়ে ওয়াজির আলী স্কুল মাঠ ছাড়িয়ে আশপাশের সড়কগুলোতেও তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। দীর্ঘ যানজটে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি হলেও শহরজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ।
সন্ধ্যা ৬টা ৫৫ মিনিটে মঞ্চে উঠে মাত্র ২৩ মিনিটের সংক্ষিপ্ত কিন্তু জাদুকরী বক্তব্যে উপস্থিত জনতাকে উজ্জীবিত করেন আমিরে জামায়াত।

