জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, প্রতিনিধি
ব্যস্ত একাডেমিক জীবন আর যান্ত্রিক নগর কোলাহল ছেড়ে প্রকৃতির নীরবতায় হারিয়ে যাওয়ার এক অনন্য সুযোগ পেয়েছিলেন জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের শিক্ষার্থীরা। বিভাগের আয়োজনে ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, সোমবার শুরু হয় দুই দিনব্যাপী বিভাগীয় শিক্ষা সফর। এবারের গন্তব্য ছিল পাহাড়, কুয়াশা ও নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি বান্দরবান।
এই সফরে বিভাগের তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম ব্যাচের মোট ৪৫ জন শিক্ষার্থী এবং বিভাগের শিক্ষক নাজমুল হুদা অংশগ্রহণ করেন।
শীতের এক নীরব রাতে, রাত আটটায় জামালপুর রেলস্টেশন থেকে যাত্রা শুরু হয় বহুল প্রত্যাশিত এই সফরের। রাতের ট্রেনযাত্রা জুড়ে ছিল গল্প, আড্ডা আর নতুন অভিজ্ঞতার রোমাঞ্চ। পরদিন সকালে চট্টগ্রাম স্টেশনে পৌঁছে নাস্তা শেষে বাসযোগে সবাই রওনা দেন বান্দরবানের উদ্দেশে।
পাহাড়ঘেরা বান্দরবান শহরে পৌঁছাতেই দীর্ঘ ভ্রমণের ক্লান্তি যেন মিলিয়ে যায় প্রকৃতির স্পর্শে। হোটেলে কিছুটা বিশ্রাম ও দুপুরের খাবার শেষে শুরু হয় প্রথম দিনের ভ্রমণ। চাঁদের গাড়িতে চড়ে দলটি পৌঁছায় নীলাচল পর্যটন কেন্দ্রে। পাহাড়চূড়া থেকে চারপাশে ছড়িয়ে থাকা সবুজ পাহাড়, মেঘ আর নীরব পরিবেশ মুহূর্তেই সবাইকে মুগ্ধ করে তোলে। ছবি তোলা, গান গাওয়া আর খোলা আকাশের নিচে প্রাণবন্ত আড্ডায় কেটে যায় বিকেল।
এরপর শিক্ষার্থীরা ঘুরে দেখেন মেঘলা পর্যটন কেন্দ্র। পাহাড়ি পথে হাঁটতে হাঁটতে পাখির ডাক, শীতল বাতাস ও সবুজ প্রকৃতি এনে দেয় এক অনাবিল প্রশান্তি। প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতেই শেষ হয় প্রথম দিনের কর্মসূচি।
দ্বিতীয় দিনের শুরু হয় ভোরেই। আবার চাঁদের গাড়িতে চড়ে যাত্রা করা হয় কেওক্রাডংয়ের পথে। আঁকাবাঁকা পাহাড়ি সড়ক, উঁচু-নিচু পথ আর একের পর এক দর্শনীয় দৃশ্য যেন এই ভ্রমণকে করে তোলে আরও রোমাঞ্চকর। পথে দেখা মেলে বগালেক, পাহাড়ের ঢালে ছড়িয়ে থাকা আদিবাসী গ্রাম ও নান্দনিক প্রাকৃতিক দৃশ্য। যত উপরে ওঠা যায়, ততই প্রকৃতির রূপ আরও বিস্ময় জাগায়।
দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর দিনের শেষে সন্ধ্যায় সবাই ফিরে আসেন নির্ধারিত রিসোর্টে। সেখানে আয়োজন করা হয় এক প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার। গান, নাচ, হাসি আর আড্ডায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ। রাতের বিশেষ আকর্ষণ ছিল সবার সঙ্গে বসে উপভোগ করা বিরিয়ানি পার্টি, যা সফরের আনন্দকে এনে দেয় পরিপূর্ণতা।
পরদিন সকালে বান্দরবানকে বিদায় জানিয়ে বাসযোগে চট্টগ্রাম এবং সেখান থেকে ট্রেনে করে ফিরে যান জামালপুরে। ভ্রমণ শেষ হলেও থেকে যায় অসংখ্য স্মৃতি, ছবি আর গল্প।
এই শিক্ষা সফর ছিল শুধু ভ্রমণ নয়; ছিল পড়াশোনার চাপের মাঝখানে একটু থামার সুযোগ, সহপাঠীদের সঙ্গে বন্ধনের দৃঢ়তা এবং প্রকৃতির কাছে নিজেকে নতুন করে আবিষ্কারের এক অভিজ্ঞতা। পাহাড়, মানুষ আর মুহূর্ত—সব মিলিয়ে বান্দরবানের এই সফর ইইই শিক্ষার্থীদের জীবনে হয়ে থাকবে এক স্মরণীয় অধ্যায়।

