যশোর প্রতিনিধি
যশোর সদর উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়নে ফুলেল শুভেচ্ছা ও ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করছেন যশোর-৩ ( সদর) আসনে শীষের প্রার্থী বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে তিনি শানতলা গ্রাম থেকে ষষ্ঠ দিনের মতো প্রচারণা শুরু করেন। গ্রামবাসী তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়ার পাশাপাশি বিজয়ী করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছেন।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত গ্রামাঞ্চলে যেসব পথসভা করছেন এর প্রতিটিতে পুরুষের পাশাপাশি নারী ভোটারদের বিপুল উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
হিন্দু-মুসলিমনির্বিশেষে গৃহবধূরা পর্যন্ত অমিতের কর্মসূচিগুলোতে উপস্থিত হয়ে তাকে সমর্থন জনাচ্ছেন। দিচ্ছেন ভোটে বিজয়ী করানোর প্রতিশ্রুতিও।
কাশিমপুর ইউনিয়নেও নারী ভোটারদের এমন উপস্থিতি দেখা যায়।অনিন্দ্য ইসলাম অমিত প্রচারণার শুরুতে কাশিমপুর ইউনিয়নের কৃতী সন্তান সাবেক সংসদ সদস্য আলী রেজা রাজু, জাসদ নেতা আব্দুল হাইসহ প্রয়াত সকলকে গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। এ সময় তাদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মুনাজাত করা হয়।
সেখানে পথ সভায় বক্তব্য রাখেন প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
তিনি বলেন, ‘আমরা আগামীতে কেমন বাংলাদেশ গড়তে চাই, তার প্রমাণ চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর দেখিয়ে দিয়েছি। সারাদেশের মতো যশোরেও পাড়া-মহল্লায় পাহারা বসিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বী থেকে শুরু করে সকল ধর্মের মানুষের জানমাল, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বাড়ি-ঘরের সুরক্ষা দিয়েছি।’
অমিত বলেন, বিএনপি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিশ্বাসী। বিএনপি কোনোদিন ধর্মীয় বিশ্বাসের ভিন্নতার কারণে মানুষের মধ্যে বিভেদ, বিভাজন চায় না।
পথসভায় স্থানীয় বাসিন্দা সাবেক শ্রমিক নেতা শামসুর রহমান বলেন, আমরা এই গ্রামের হিন্দু, মুসলিম একত্রে মিলেমিশে বসবাস করে আসছি। আমরা ধর্মের ভিত্তিতে কোন বিভাজন চাই না।
‘আজকে যারা ধর্মের দেওয়াল দিয়ে মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে চায়, যে কোন মূল্যে আমরা তাদের তাদের প্রতিহত করবো,’ বলেন অমিত।
ধর্মভিত্তিক একটি দলকে উদ্দেশ করে শামসুর রহমান বলেন, ‘একাত্তরে আমি নিজে তাদের ভূমিকা দেখেছি। তাদের ভয়ে বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছিলাম। আমরা এমন বাংলাদেশ আর দেখতে চাই না।’
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত কাশিমপুর ইউনিয়নের উন্নয়নে ভূমিকা পালনের প্রতিশ্রুতি দেন।
তিনি বলেন, ‘কাশিমপুর ইউনিয়নের ভেঙেপড়া রাস্তার উন্নয়নে আমি ধানের শীষে ভোট চাই। আমার পিতা তরিকুল ইসলাম এই গ্রামের মেঠোপথ থেকে শুরু করে রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দিরের উন্নয়নের পাশাপাশি ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছিলেন। এরপর দীর্ঘ ১৭ বছর এই এলাকার মানুষ উন্নয়ন বঞ্চিত। আমি নতুন করে এলাকায় উন্নয়ন করতে চাই।’
এদিন সকাল থেকেই অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সাধারণ ভোটারদের কাছ থেকে অভূতপূর্ব সাড়া পেয়েছেন। তিনি যেখানেই গেছেন সেখানে সাধারণ মানুষ তাকে সাদর সম্ভাষন জানিয়েছেন। প্রায় প্রতিটি এলাকায় তার আগমনের খবরে রাস্তায় অপেক্ষা করতে দেখা গেছে মানুষকে।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত পৌঁছানোমাত্রই তার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে রজনিগন্ধার স্টিক। ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে তাকে বরণ করে নেওয়া হয়েছে। নিজে ভোট চাওয়ার আগেই অমিতের কাছে বিজয়ী হওয়ার পর তিনি এলাকাগুলোর জন্য কী কী উন্নয়ন করতে পারেন তার ফিরিস্তি তুলে ধরেছেন মানুষ।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সহাস্যে সবার কথা শুনেছেন। করমর্দনের পাশাপাশি বুকে জড়িয়ে ধরেছেন অনেককে। বলেছেন, সবার প্রত্যাশা পূরণে তিনি বদ্ধপরিকর। তার আগে দরকার জনতার ভোটে বিজয়ী হওয়া। সেই বিজয় যাতে কেউ ছিনিয়ে নিতে না পারে সেদিকে সকলকে সজাগ থাকারও আহ্বান জানিয়েছেন ধানের শীষের এই কান্ডারি।

