রাসেল আহমেদ, খুলনা প্রতিনিধি
দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় পর খুলনার মাটিতে সরাসরি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে যাচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আগামী ২ ফেব্রুয়ারি খুলনায় অনুষ্ঠিতব্য একটি নির্বাচনী মহাসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তার।
এই খবরে খুলনার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে, পাশাপাশি বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।
খুলনা মহানগর বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচনের প্রাক্কালে দলীয় শক্তি প্রদর্শনের লক্ষ্যে এই মহাসমাবেশের আয়োজন করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন পর দলের শীর্ষ নেতার সরাসরি উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে খুলনা মহানগর, জেলা ও আশপাশের কয়েকটি জেলার নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে সমাবেশটিকে দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক জমায়েতে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
দলীয় একটি অসমর্থিত সূত্র জানায়, ২ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় খালিশপুরের প্রভাতী স্কুল মাঠে মহাসমাবেশটি অনুষ্ঠিত হতে পারে। যদিও সমাবেশের স্থান ও সময় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি, তবে সম্ভাব্য ভেন্যুকে ঘিরে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
বিএনপি নেতারা বলছেন, তারেক রহমানের এই সফর শুধু একটি নির্বাচনী কর্মসূচির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি দলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে। দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যাওয়া নেতাকর্মীদের মনোবল চাঙা করতে এই সফর বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন তারা।
খুলনা মহানগর বিএনপির এক সিনিয়র নেতা বলেন,
“দীর্ঘ দুই দশক পর আমাদের নেতা খুলনায় আসছেন—এটি আমাদের জন্য আবেগ ও গর্বের বিষয়। খুলনা ঐতিহাসিকভাবে বিএনপির শক্ত ঘাঁটি।
এই মহাসমাবেশের মাধ্যমে আমরা জনগণের সামনে আমাদের সাংগঠনিক শক্তির বার্তা তুলে ধরতে চাই।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে তারেক রহমানের খুলনা সফর বিএনপির নির্বাচনী কৌশলে তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলে দলটির সাংগঠনিক সক্ষমতা প্রদর্শন ও ভোটারদের মধ্যে আস্থা সৃষ্টির ক্ষেত্রে এই মহাসমাবেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এদিকে মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, দলীয় সূত্রের দাবি অনুযায়ী, সর্বশেষ ২০০৪ সালে খুলনা সফর করেছিলেন তারেক রহমান। দীর্ঘ বিরতির পর তার এই সফর খুলনার রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টরা।

