মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মানিকগঞ্জ-২ (হরিরামপুর-সিংগাইর) আসনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উস্কানিমূলক পোস্ট, ফেক নিউজ ও গুজবের কারণে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়া এসব অপপ্রচারের কারণে ভোটার উপস্থিতি কমতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন অনেকেই।
স্থানীয় প্রার্থীদের অভিযোগ, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে লেভেল প্লেইং ফিল্ড নেই। পূর্ববর্তী নির্বাচনে রাতের ভোট এবং ভোট কারচুপির সঙ্গে যুক্ত যারা দায়িত্ব পালন করেছিলেন—যদি তারা এবারও একইভাবে দায়িত্ব পান, তাহলে ফলাফলে স্বচ্ছতার শঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি, প্রার্থীদের ফটো ও প্রতীক ব্যবহার করে ফেক আইডি থেকে চাঁদাবাজি, দুর্নীতিবাজি ও অপপ্রচারের অভিযোগও দেখা যাচ্ছে।
এছাড়া, বিদেশ থেকে নিয়ন্ত্রিত হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম গ্রুপের মাধ্যমে ভোটারদের ভোট প্রদানে বাধা দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিভিন্ন ফেক নিউজ ও এআই ব্যবহার করে ভিডিও-ফটো আপলোডের ফলে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছে, ভীতি ও দ্বিমতের মধ্যে পড়ে যাচ্ছে।
গালা ইউনিয়ন পরিষদের তিনবারের চেয়ারম্যান ও হরিরামপুর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শফিক বিশ্বাস বলেন, “ভোটাররা দ্বারায় দ্বারায় প্রশ্ন করছেন ভোট হবে কি না। যারা হেরে যাওয়ার ভয় দেখছে, তারা গোপন অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে। তবে এই ষড়যন্ত্র কোনোভাবেই সফল হবে না।”
হরিরামপুর উপজেলা বিএনপি সভাপতি হান্নান মৃধা বলেন, “আগামী নির্বাচনে ভোট কেন্দ্রের দায়িত্বে যারা অতীতে ভোট চুরি ও লুটপাটের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তারা দায়িত্বে থাকলে ফলাফল নিয়ে শঙ্কা থাকবে। আওয়ামী প্রভাবশালীরা গোপনে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে।”
হরিরামপুর থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবজাল হোসেন জানান, “নির্বাচন নিয়ে গুজব ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে ইলেকট্রোরাল কমিটি রয়েছে। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা নাহিদা আক্তারও বলেন, “অপপ্রচার ও গুজব চালানোদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অভিযোগ পাওয়া গেলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
নির্বাচনী পরিবেশে এই ধরনের উস্কানি ও গুজব ভোটারদের মধ্যে ভয়, দ্বিমত ও অস্থিরতা বৃদ্ধি করছে, যা আগামী নির্বাচনের ফলাফলের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

