ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
পরিবারের সঙ্গে হাসিমুখে ঘুরতে বেরিয়েছিলেন সুমাইয়া খাতুন (২৩)। কোলে ছিল ১১ মাসের দুগ্ধপোষ্য শিশু। কিন্তু এক নিমেষেই সেই আনন্দ বিষাদে পরিণত হলো। ইজিবাইকের চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে এই কলেজছাত্রীর।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঝিনাইদহ-চুয়াডাঙ্গা সড়কের বুড়াই নামক স্থানে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত সুমাইয়া ঝিনাইদহ সরকারি কেশবচন্দ্র কলেজের গণিত বিভাগের অনার্স চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী ছিলেন।
তিনি হরিণাকুণ্ডু উপজেলার জোড়াপুকুরিয়া গ্রামের সেলিম রেজার স্ত্রী।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পারিবারিক সূত্র জানায়: চুয়াডাঙ্গার একটি পার্ক থেকে ভ্রমণ শেষে ইজিবাইকে করে বাড়ি ফিরছিলেন এই দম্পতি। পথিমধ্যে ইজিবাইকে বসে সন্তানকে বুকের দুধ পান করানোর সময় অসাবধানতাবশত সুমাইয়ার ওড়না চাকার সাথে পেঁচিয়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই তিনি গাড়ি থেকে ছিটকে রাস্তায় পড়ে যান। স্থানীয়রা উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. তাপস কুমার জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই সুমাইয়ার মৃত্যু হয়েছে। মূলত ওড়নায় ফাঁস লেগে শ্বাসরোধ হওয়ার কারণেই তার মৃত্যু ঘটে।
স্ত্রীর এমন মৃত্যুতে স্তব্ধ স্বামী সেলিম রেজা। কান্নায় ভেঙে পড়ে তিনি বলেন, “আমার জীবনটা তছনছ হয়ে গেল। শিশু সন্তানকে দুধ খাওয়ানোর সময় আচমকা ওড়না জড়িয়ে এই সর্বনাশ হলো।
ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি সামসুল আরেফিন জানান, পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

