তাপস কুমার মজুমদার, স্টাফ রিপোর্টার, ভোলা
ভোলায় ভুল চিকিৎসায় ফারিয়া আক্তার (২২) নামে এক প্রসূতি মায়ের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্বজনেরা শহরের সদর রোড এলাকায় অবস্থিত হাবিব মেডিকেল সেন্টার নামে একটি বেসরকারি হাসপাতালের বেশ কয়েকটি কক্ষে ভাঙচুর চালিয়েছেন।
সোমবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
নিহত ফারিয়া আক্তার ভোলার ধনিয়া ইউনিয়নের তুলাতলী এলাকার মাতব্বর বাড়ির মো. নাহিদের স্ত্রী।
নিহতের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আজ সোমবার সকাল ১১টার দিকে প্রসব বেদনা শুরু হলে ফারিয়াকে হাবিব মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করানো হয়। ডেলিভারির প্রস্তুতির একপর্যায়ে কর্তব্যরত নার্স একটি ইনজেকশন পুশ করেন। ইনজেকশন দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ফারিয়া নিস্তেজ হয়ে পড়েন।
ফারিয়ার স্বামী মো. নাহিদ বলেন, ‘ইনজেকশন দেওয়ার পর আমার স্ত্রী আর কথা বলছিল না। আমরা চিৎকার করলে পরে স্টাফরা এসে দেখে বলে সে মারা গেছে। কোনো ডাক্তার তখন পাশে ছিল না।’
নিহতের এক স্বজন বলেন, ‘সুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। ভুল ইনজেকশন দেওয়ার কারণেই ফারিয়ার মৃত্যু হয়েছে। আমরা এর সঠিক বিচার চাই।’
ফারিয়ার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজনেরা উত্তেজিত হয়ে হাসপাতালের কয়েকটি কক্ষে ভাঙচুর চালান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
হাবিব মেডিকেল সেন্টারের রিসিপশনে কর্মরত স্টাফ মো. বিল্লাল জানান, পারভিন ডাক্তার নামে এক গাইনি চিকিৎসক ওই রোগীকে ক্লিনিকে পাঠান। এ সময় রোগীকে ভর্তি না করেই ‘এলজিন’ নামের একটি ব্যথানাশক ইনজেকশন পুশ করা হয়। এরপর কী ঘটেছে, সে বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি তিনি।
ভোলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. ইব্রাহিম বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি, ইনজেকশন দেওয়ার পর ওই প্রসূতি মারা যান। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্বজনেরা ক্লিনিকের কিছু ক্ষতি করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.