আলীকদম (বান্দরবান) প্রতিনিধি
বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার মাতামুহুরি সংরক্ষিত বনাঞ্চলে সরকারি বনায়ন প্রকল্পের জমি দখল করে বিলাসবহুল খামার ও বাগান গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা উক্যজাই মারমার বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ আট বছর ধরে তদন্ত চললেও এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বনবিভাগ।
স্থানীয়রা জানান, ঘটনাস্থল লামা বন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে মাত্র ৫০০ মিটার দূরে হলেও বিষয়টি দেখেও না দেখার ভান করছে বনবিভাগ। মাতামুহুরি সংরক্ষিত বনায়ন প্রকল্পের অধিকাংশ উপকারভোগী ম্রো জনগোষ্ঠীর সদস্য।
বনবিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০০৩ সালে সংরক্ষিত বনে বনায়ন সৃষ্টির লক্ষ্যে বনবিভাগের অর্থায়নে স্থানীয়দের অংশগ্রহণে ২৫ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হয়। পরে ২০১৩ সালে ওই বাগান নিলামে বিক্রি করা হয়। একই এলাকায় ২০১৬ সালে ব্লকউড প্রকল্পের আওতায় পুনরায় ২৫ হেক্টর পাহাড়ি জমিতে বনায়ন কার্যক্রম শুরু করা হয়।
ম্রো উপকারভোগীদের অভিযোগ, ২০১৭ সালে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে উক্যজাই মারমা পুরো ব্লকউড প্রকল্পের বাগান দখল করে নেন। তৎকালীন বন কর্মকর্তাদের অর্থের বিনিময়ে প্রভাবিত করে তিনি সংরক্ষিত বনের তুলাতলি এলাকার বড় অংশ নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ব্যক্তিগত খামার ও বাগান গড়ে তোলেন। সে সময় তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন বলে জানান স্থানীয়রা।
উপকারভোগীদের দাবি, গত আট বছরে শতাধিকবার বনবিভাগে অভিযোগ দিলেও রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবের কারণে কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। এতে প্রকল্পের উপকারভোগীরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তেমনি সরকারও বিপুল রাজস্ব হারিয়েছে।
মিরিংচর এলাকার বাসিন্দা কাইপ্রো ম্রো বলেন, “ব্লকউড প্রকল্প আমাদের অংশগ্রহণে বাস্তবায়িত হলেও উক্যজাই মারমা সেই জায়গা দখল করে নিয়েছেন। প্রকল্প, জমি ও গাছ সবই বনবিভাগের হলেও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।”
একই এলাকার মেনপয় ম্রো অভিযোগ করেন, “আমাদের চাষাবাদের জমি বনায়ন প্রকল্পের কথা বলে নেওয়া হয়েছিল। পরে সেখানে আওয়ামী লীগ নেতা খামার গড়ে তুলেছেন। সরকারি প্রকল্প ধ্বংস হলেও বনবিভাগ নীরব দর্শক।”
তিনি আরও দাবি করেন, উক্যজাই মারমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে হামলা ও মামলার হুমকি দেওয়া হয়।
অভিযোগ অস্বীকার করে উক্যজাই মারমা বলেন, সরকার তাকে মাতামুহুরি সংরক্ষিত বনাঞ্চলে পাঁচ একর জমি বাগান করার জন্য দিয়েছে। তার মতো আরও ১২৪ পরিবারকে চাষের জন্য জমি দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে তিনি বলেন, “রিজার্ভে শত শত একর জায়গা দখল হয়েছে। উচ্ছেদ করলে সবাইকে করুক।”
এ বিষয়ে মাতামুহুরি রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল মালেক বলেন, “পুনর্বাসন তালিকায় উক্যজাই মারমার নাম নেই। সংরক্ষিত বনাঞ্চলে বাগান করার জন্য সরকার কাউকে জমি দেয়নি।”
লামা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান প্রথমে অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরে বলেন, “অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজন হলে উচ্ছেদ করা হবে।”
এদিকে সংরক্ষিত বনে সরকারি বনায়ন প্রকল্প ধ্বংস করে ব্যক্তিগত খামার গড়ে তোলার অভিযোগে দ্রুত তদন্ত শেষ করে দখলমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় উপকারভোগীরা।

