Nabadhara
ঢাকাশনিবার , ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কৃষি
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলাধুলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. জাতীয়
  10. জেলার সংবাদ
  11. ঢাকা বিভাগ
  12. তথ্যপ্রযুক্তি
  13. ধর্ম
  14. প্রধান সংবাদ
  15. ফিচার
আজকের সর্বশেষ সবখবর

৬০ বছরেও পূর্ণ সংস্কার হয়নি ‘হাতিয়া রক্ষা বাঁধ’, ঝুঁকিতে জনপদ

হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি
ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬ ২:০৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি

১৯৬০ সালের ভয়াবহ জলোচ্ছ্বাসের পর নির্মিত ঐতিহাসিক ‘হাতিয়া রক্ষা বাঁধ’ দীর্ঘ ছয় দশক পেরিয়ে গেলেও আজও পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের মুখ দেখেনি। ফলে প্রতি বর্ষা ও ঝড়-জলোচ্ছ্বাসে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার লাখো মানুষ চরম ঝুঁকিতে বসবাস করছে।

তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর লে. জেনারেল আযম খানের উদ্যোগে হাতিয়া দ্বীপ ঘিরে এই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়। দ্বীপের মাঝ বরাবর পূর্ব–পশ্চিমে খনন করা হয় সূর্যমুখী খাল, যা পানি নিষ্কাশন ও সেচ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। খালটির পূর্বাংশ সূর্যমুখী বাজার হয়ে এবং পশ্চিমাংশ চরচেঙ্গা বাজার হয়ে মেঘনা নদীর সঙ্গে যুক্ত।

তবে নির্মাণের পর থেকে পুরো বাঁধের কখনো পূর্ণাঙ্গ সংস্কার না হওয়ায় অধিকাংশ অংশ এখন ভাঙাচোরা ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। নদীভাঙনের ফলে ইতোমধ্যে হাতিয়ার দুটি ইউনিয়ন মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং সৃষ্টি হয়েছে নতুন চরাঞ্চল।

আটটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার চারপাশের বেড়িবাঁধের অনেক অংশে মাটি সরে গিয়ে জমির সমতলে নেমে এসেছে। বর্ষা মৌসুমে ভাঙা অংশ দিয়ে পানি ঢুকে ফসলি জমি প্লাবিত হয়, দুর্ভোগে পড়েন কৃষক ও সাধারণ মানুষ।

যদিও সূর্যমুখী খালের দক্ষিণাংশ এবং জাহাজমারা এলাকার মুক্তারিয়া অংশে আংশিক সংস্কার হয়েছে, বুড়িরচর-রেহানিয়া অংশসহ বেশিরভাগ এলাকা এখনও ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে সূর্যমুখী খালের উত্তর পাশের প্রায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ বেড়িবাঁধ নির্মাণের পর থেকে কোনো সংস্কার হয়নি।

স্থানীয়রা জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে থাকা বাঁধের কিছু অংশ নাগরিক চলাচলের জন্য এলজিইডি কার্পেটিং করলেও উত্তর অংশ এখন চলাচলের অযোগ্য।

গুল্যাখালী গ্রামের মো. ইদ্রিস বলেন, জন্মের পর থেকেই এই বাঁধ দিয়ে কষ্ট করে চলাচল করছেন, কিন্তু এর বেহাল অবস্থা কারও নজরে পড়ছে না। শুন্যেরচর গ্রামের আব্দুর রহমান বলেন, অন্তত এক কিলোমিটার অংশ পাকাকরণের জন্য বহুদিন ধরে চেষ্টা করছেন তারা।

এলজিইডির উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. রাহিম জানান, সূর্যমুখী উত্তর বেড়িবাঁধের চৌমুহনী বাজার থেকে পূর্ব দিকে এক কিলোমিটার অংশের এস্টিমেট জমা দেওয়া হয়েছে এবং শিগগিরই টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী এমদাদুল হক বলেন, পশ্চিমাংশের জন্যও পর্যায়ক্রমে এস্টিমেট প্রস্তুত করা হবে।

১৯৬০ সালের জলোচ্ছ্বাসের পর গভর্নর আযম খান হাতিয়া সফর করে উপকূলীয় এলাকায় বেড়িবাঁধ নির্মাণ, নৌ-যোগাযোগ চালু, বিদ্যুৎ সুবিধা ও পুষ্টিহীন শিক্ষার্থীদের জন্য খাদ্য সহায়তার উদ্যোগ নেন। তাঁর উদ্যোগেই হাতিয়া রক্ষা বাঁধ নির্মিত হয়, যা আজও দ্বীপবাসীর নিরাপত্তার প্রধান ভরসা।

বর্তমানে ঐতিহাসিক এই বাঁধ মারাত্মক হুমকির মুখে থাকায় স্থানীয়রা দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।

নোয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এস. এম. রেফাত জামিল বলেন, হাতিয়া একটি দুর্যোগপ্রবণ এলাকা। পুরো বাঁধ সংস্কারের জন্য উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে। জরুরি অংশগুলো খতিয়ে দেখে দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।