শামসুল হক ভূঁইয়া,গাজীপুর
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গাজীপুর জেলাজুড়ে ভোটকেন্দ্র নিরাপত্তা নিয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে প্রশাসন। জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনে স্থাপিত ৯৩৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৪৪০টিকেই গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ ও জেলা পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর মধ্যে গাজীপুর মহানগর এলাকায় রয়েছে ২২৭টি এবং জেলা অংশে রয়েছে ২১৩টি কেন্দ্র। সম্ভাব্য সহিংসতা, অনিয়ম ও কেন্দ্র দখলের আশঙ্কা থেকেই এসব কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
নির্বাচনে গাজীপুরের ভোটকেন্দ্রগুলোকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ও ‘সাধারণ’—এই দুই শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। পাঁচটি সংসদীয় আসনের মধ্যে মহানগর এলাকায় পড়েছে ৪০০টি ভোটকেন্দ্র।
উপজেলা ভিত্তিক হিসাবে সদর উপজেলায় ৪৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ৪৪টি কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। কালিয়াকৈর উপজেলায় ১২৮টির মধ্যে ৯১টি, শ্রীপুরে ১৪৮টির মধ্যে ৯৭টি, কাপাসিয়ায় ১২২টির মধ্যে ৪৬টি এবং কালীগঞ্জ উপজেলায় ৯০টির মধ্যে ৩৫টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রয়েছে।
গাজীপুর মহানগর এলাকায় থাকা তিনটি সংসদীয় আসনের আওতায় মোট ২২৭টি ভোটকেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়েছে।
গাজীপুর মহানগর পুলিশের কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার বলেন, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে পর্যাপ্ত সংখ্যক সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। ভোটকেন্দ্র দখল বা অনিয়ম রোধে পুলিশ ও আনসার ভিডিপি সদস্যদের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিজিবি ও র্যাব সদস্যরা সার্বক্ষণিক টহলে থাকবে। পুলিশ সদস্যরা বডি ওয়ার্ন ক্যামেরার মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করবেন।
তিনি আরও জানান, নির্বাচনকে ঘিরে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না। অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গাজীপুরের সকল রিসোর্ট চার দিন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।

