ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলার ১ নম্বর ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আল মাসুমের বিরুদ্ধে একের পর এক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি ইউনিয়ন পরিষদের মালামাল হিসেবে সংরক্ষিত লোহার ভিম স্থানীয় একটি মুরগির খামারে পাওয়ার ঘটনা নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়নের দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষিত লোহার ভিম সাধারণত বিভিন্ন নির্মাণ কাজ বা জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহার হতো। তবে গত সোমবার সকাল ১১ টার দিকে সচিব আল মাসুম প্রায় ১০টি লোহার ভিম স্থানীয় টমটম চালক মনির হাওলারের মাধ্যমে সেনের হাট এলাকার টুটুল গাজীর মুরগির ফার্মে পাঠান। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় রিকশা চালক মাফুজ আকন অভিযোগ করেন, তার ছেলে আয়মানের জন্মনিবন্ধন করাতে গিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আল মাসুম তার কাছ থেকে ২ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন। তিনি বলেন, এ ধরনের দুর্নীতি সাধারণ মানুষকে সরকারি সেবা পেতে সমস্যার মুখে ফেলে এবং স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করছে।
ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম নান্না বলেন, “পরিষদের লোহার ভিম কীভাবে মুরগির খামারে গেল তা আমরা জানি না। তবে সরকারি সম্পদের যথাযথ ব্যবহার ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা উচিত। এ ধরনের ঘটনা স্থানীয় মানুষের আস্থা ক্ষুন্ন করেছে। বিষয়টি তদন্ত করা প্রয়োজন।”
ফার্ম মালিক টুটুল গাজি বলেন, “আমার ফার্মের সামনের খালে একটি পুল নির্মাণের জন্য ইউপি সচিব ভিমগুলো এখানে পাঠিয়েছেন।” সচিব আল মাসুমও জানান, খালে একটি পুল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, তাই ভিমগুলো সেখানে রাখা হয়েছে। তবে তিনি স্বীকার করেন, এ বিষয়ে কোনো লিখিত অনুমোদন বা ইউনিয়ন পরিষদের রেজুলেশন নেই।
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খান এনামুল করিম বলেন, তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না এবং সচিব কোনো তথ্য দেননি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেহেনা আক্তার জানান, নির্বাচনের পর এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

