স্টাফ রিপোর্টার, নড়াইল
নড়াইল সদর উপজেলায় নির্বাচনী বিরোধ ও স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ধানের শীষ ও বিদ্রোহী কলস প্রতীকের পরাজিত দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ও রাতে হবখালী ইউনিয়নের বাগডাঙ্গা বাজারে দুই দফা সংঘর্ষে ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতিসহ অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। আহতরা নড়াইল আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য রিয়াজুল ইসলাম টিংকু ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সৈয়দ আতিয়ার রহমান গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলে আসছিল। সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টিংকু গ্রুপ ধানের শীষের প্রার্থী এ জেড এম ফরিদুজ্জামানের পক্ষে কাজ করে। অন্যদিকে আতিয়ার রহমানের সমর্থকরা বহিষ্কৃত জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আলহাজ মনিরুল ইসলামের কলস প্রতীকের পক্ষে কাজ করেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে উভয় প্রার্থী পরাজিত হওয়ার পর বিরোধ চরমে ওঠে।
সোমবার সন্ধ্যায় বাগডাঙ্গা বাজারে প্রথম দফা সংঘর্ষে টিংকু গ্রুপের আশরাফুল শেখ (৩০) ও নাহিদ কাজী (২৪) গুরুতর আহত হন। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে দ্বিতীয় দফা হামলায় সৈয়দ আতিয়ার রহমানসহ তার পক্ষের পাঁচজন আহত হন। আহতরা হলেন—সৈয়দ আতিয়ার রহমান, আইয়ুব আলী (৫০), শওকত আলম ওরফে রেন্টু (৬৫), খিজির হোসেন (৪৮), মাহিন আলী (২৬) ও আশরাফুল মুনসী (২৫)।
নড়াইল আধুনিক সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শরীফ মোহাম্মদ হাসান ফেরদৌস জানান, আহতদের ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
আহত আশরাফুল শেখ অভিযোগ করেন, নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করায় আতিয়ার রহমানের নেতৃত্বে তার ওপর হামলা চালানো হয়। তবে সৈয়দ আতিয়ার রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, হামলাকারীরা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং বাজারে তার ওষুধের দোকানে বসে থাকা অবস্থায় ১০–১৫ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়।
নড়াইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ওলি মিয়া জানান, স্থানীয় আধিপত্য ও নির্বাচনী বিরোধ থেকেই সংঘর্ষের সূত্রপাত। সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

