যশোর প্রতিনিধি
জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো নিজ জেলা যশোরে এসে উষ্ণ অভ্যর্থনা পেয়েছেন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় তিনি যশোর সার্কিট হাউজে পৌঁছালে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত হন। এর আগে যশোর বিমানবন্দর থেকে সার্কিট হাউজে পৌঁছালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। সকাল থেকেই সার্কিট হাউজ এলাকায় বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। জেলার আট উপজেলার বিভিন্ন ওয়ার্ড ও পাড়া-মহল্লা থেকে আগত নেতাকর্মীরা ফুলের তোড়া ও মালা নিয়ে উপস্থিত হন। পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দুই দিনের সরকারি সফরে শুক্রবার বিকেলে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন প্রতিমন্ত্রী। এছাড়া ওলামাদের সঙ্গে মতবিনিময় ও ইফতার মাহফিলে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। শনিবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় যোগদান করবেন তিনি। পরে দলীয় নেতাকর্মী ও সাংবাদিকদের সঙ্গে পৃথক মতবিনিময় করবেন।
প্রসঙ্গত, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তার বাবা, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলাম চারবার মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পিতার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ধারণ করে অমিত জেলা বিএনপির প্রাথমিক সদস্য হিসেবে রাজনীতি শুরু করেন এবং ধাপে ধাপে সাংগঠনিক দায়িত্বে আসীন হন। খুলনা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও পরে ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন তিনি।
২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত হলেও পরবর্তী সময়ে সরকারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। সর্বশেষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-৩ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ২ লাখ ১ হাজার ৩৩৯ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর প্রার্থী মো. আব্দুল কাদের।
পরবর্তীতে বিএনপি সরকার গঠন করলে তাকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়।
দলীয় নেতাকর্মীরা আশা প্রকাশ করে বলেন, প্রতিমন্ত্রী হিসেবে অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের দায়িত্ব পালন যশোরসহ দক্ষিণ-পপশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নে নতুন গতি আনবে।

