শফিকুল ইসলাম সাফা, চিতলমারী
মায়ের প্রতি সন্তানের অকৃত্রিম মমতা ও ভালোবাসা জানাতে নিজ হাতে মায়ের চরণ ধুয়ে শ্রদ্ধা জানালো অর্ধ-শতাধিক সন্তান। জন্মদাত্রী মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা প্রকাশের প্রত্যয় নিয়ে ১০তম বারের মতো বাগেরহাটের চিতলমারীতে ব্যতিক্রমী এই জীবন্ত মাতৃপূজার আয়োজন করা হয়।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় উপজেলার পরানপুর গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকুরিজীবী ও সমাজসেবক মনমথ নাথ মণ্ডলের পরিচালনায় ও স্থানীয় গ্রামবাসীর সহযোগিতায় প্রয়াত যোগেন্দ্র নাথ মণ্ডলের আঙিনায় এই জীবন্ত মাতৃপূজা অনুষ্ঠিত হয়। মাতৃপূজার আগে আয়োজক মনমথ নাথ মণ্ডল উপস্থিত সকল মায়ের হাতে নতুন বস্ত্র তুলে দেন। মায়েরা এই নতুন বস্ত্র পরিধান করে ভক্তিপূর্ণভাবে সন্তানের সামনে উপস্থিত হন।
ব্যতিক্রমী এ মাতৃপূজায় বিভিন্ন বয়সের প্রায় ৬৫ জন সন্তান পরম শ্রদ্ধায় তাদের নিজ হাতে জন্মদাত্রী নিজ নিজ মায়ের পা ধুয়ে মুছে দেয়। এরপর ধূপ-দীপ জ্বালিয়ে ফুল ও প্রসাদ সাজিয়ে, মায়ের গলায় মালা পরিয়ে মন্ত্র পাঠের মাধ্যমে দেবী রূপে জীবিত মায়ের পূজা করা হয়। পূজা শেষে নিজের হাতে মায়ের মুখে প্রসাদ তুলে দেন সন্তানেরা। মায়েরা তাদের সন্তানদের মাথায় হাত দিয়ে প্রাণভরে আশীর্বাদ করেন এবং সন্তানের মুখে প্রসাদ তুলে দেন। এ সময় মা-সন্তানের কান্নায় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
ব্যতিক্রমী এ আয়োজনে উপ-সহকারী কৃষিকর্মকর্তা বর্ষণ মণ্ডল, সহকারী অধ্যাপক সুব্রত মণ্ডল, সহকারী অধ্যাপক শ্যামল চন্দ্র মণ্ডল, সহকারী শিক্ষক পরেশ মজুমদার ও সমাজসেবক পলাশ মণ্ডলসহ এলাকার বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার কয়েকশত ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার গৌরঙ্গ হাজরা বলেন, “ব্যতিক্রমী এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে মায়ের প্রতি সন্তানের শ্রদ্ধা-ভক্তি ও ভালোবাসা বৃদ্ধির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন হবে, যা সামাজিক অবক্ষয় রোধে ভূমিকার রাখবে।”
জীবন্ত মাতৃপূজার অন্যতম উদ্যোক্তা ও পৃষ্ঠপোষক অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারি মনমথ নাথ মণ্ডল জানান, মায়ের সামান্য পরিমাণ ঋণও সন্তান শোধ করতে পারে না। বর্তমানের তথাকথিত আধুনিকতার ছোঁয়ায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের শ্রদ্ধা-ভক্তি ও ভালোবাসার ঘাটতি দেখা দিয়েছে। শৈশব থেকেই যদি সন্তানের নীতিশিক্ষার মাধ্যমে মা-বাবার প্রতি শ্রদ্ধা-ভক্তির শিক্ষা দেয়া যায়, তবে ভবিষ্যতে আর কোনো পিতা-মাতাকে বৃদ্ধ বয়সে অবহেলার শিকার হতে হবে না। এই চিন্তাবোধ থেকেই তিনি ১০ বছর পূর্ব থেকে এই জীবন্ত মাতৃপূজার আয়োজন করে আসছেন। তিনিও যত দিন বেঁচে থাকবেন, নিজ অর্থায়নে প্রতিবছর এই মাতৃপূজার আয়োজন করবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন।

