বকশীগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি
জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় চলতি মৌসুমে গোল আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও যথাযথ পরিচর্যার কারণে আলুর উৎপাদন ভালো হলেও বাজারে ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। ফলন ভালো হলেও উৎপাদন খরচের তুলনায় কম দামে আলু বিক্রি করতে বাধ্য হওয়ায় অনেক চাষি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বকশীগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ১ হাজার ৮৫০ হেক্টরের বেশি জমিতে আলুর আবাদ হয়েছে। ফলন আশানুরূপ হলেও স্থানীয় হাট-বাজারে প্রতি মণ আলু ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিক মজুরি মিলিয়ে উৎপাদন খরচই প্রায় সমান বা তার চেয়েও বেশি বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।
বকশীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের কৃষক মন্টু মিয়া বলেন, “ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে আলু চাষ করেছি। ফলন ভালো হলেও বাজারে দাম কম থাকায় খরচই উঠছে না, লাভ তো দূরের কথা।”
সাধুরপাড়া ইউনিয়নের কৃষক শরিফ মিয়া জানান, “এ এলাকায় হিমাগারের পর্যাপ্ত সুবিধা না থাকায় আলু সংরক্ষণ করা যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।”
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, উপজেলায় পর্যাপ্ত হিমাগার না থাকায় তারা দীর্ঘদিন আলু সংরক্ষণ করতে পারছেন না। ফলে মৌসুমের শুরুতেই অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে বাজারে আলুর দাম কমে যায়। অনেক কৃষক মাঠ থেকেই কম দামে আলু বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, “এ বছর আলুর আবাদ ও ফলন দুটোই ভালো হয়েছে। তবে বাজার ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং সংরক্ষণ সুবিধা বাড়ানো গেলে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পেতেন।”
স্থানীয় কৃষিবিদরা জানান, কৃষিপণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা না হলে ভবিষ্যতে কৃষকদের আলু চাষে আগ্রহ কমে যেতে পারে। তারা দ্রুত বাজার তদারকি জোরদার, মধ্যস্বত্বভোগীদের নিয়ন্ত্রণ এবং নতুন হিমাগার স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন।

