মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি
যশোরের মনিরামপুর উপজেলার নেহালপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মিজানুর রহমান-এর বিরুদ্ধে সীমাহীন দুর্নীতি, অনিয়ম ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার ইউনিয়ন পরিষদে এক গণসভায় ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম, আলেয়া বেগম, লাকী বেগম ও মুজিবর রহমান অভিযোগ করেন, সচিব মিজানুর রহমান বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রায় অর্ধকোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, সচিব নেহালপুর ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব আয় ট্যাক্স আদায়, ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু, ওয়ারিশ সনদ ইস্যু, গ্রাম আদালতের মামলার ফিসের আয় থেকে প্রায় ৫ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়া বিভিন্ন ভুয়া প্রকল্প তৈরি করে আরও ১৫ লক্ষ টাকার অনৈতিক লেনদেন করেছেন। ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্দকৃত সরকারি অর্থের হিসাবও তিনি কাউকে দেননি এবং নিজের একক সিদ্ধান্তে কার্যক্রম পরিচালনা করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।
সচিবের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়, প্রতিমাসে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের সভা না করে রেজুলেশন প্রণয়ন করা, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, মা ও শিশু সহায়তা ভাতা এবং ভিডাব্লিউবি, টিসিবি কার্ড বিতরণে জনগণের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করা এবং কোন ভাতার বরাদ্দ আসলে ইউপি সদস্যদেরকে জানানো হয় না। এছাড়া জন্ম নিবন্ধন, মাতৃত্বকালীন ভাতা কার্ড বিক্রি এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।
ইউপি সদস্যরা জানান, সচিবের সঙ্গে অশালীন ভাষায় কথা বলার কারণে তারা পরিষদের কাজ করতে পারছেন না এবং সাধারণ মানুষও পরিষদের সেবার ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়ছেন।
ভারপ্রাপ্ত প্যানেল চেয়ারম্যান শওকত সরদার বলেন, সচিব অফিসে এলে বিষয়গুলো খতিয়ে দেখবেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সম্রাট হোসেন জানিয়েছেন, কেউ অভিযোগ করলে বিষয়গুলো তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ও এলাকাবাসী প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন এবং মিজানুর রহমানকে তদন্তের মাধ্যমে অপসারণ ও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

