দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
দেশের অন্যতম চাহিদা নির্ভর অর্থকরী ফসল তুলা কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে সবচেয়ে বেশি উৎপাদিত হয়। এ অঞ্চলের তুলার আঁশের মান উচ্চ হওয়ায় চাহিদাও বেশী। চলতি মৌসুমে দৌলতপুরে প্রায় আড়াই হাজার হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের তুলা চাষ হয়েছে।
চলতি বছরের তুলার ফলন মোটামুটি সন্তোষজনক হলেও উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় চাষীরা দাম নিয়ে ক্ষুব্ধ। দৌলতপুরের তুলা চাষী মোস্তাক আহমেদ জানান, “এই বছর সার ও কীটনাশকের দাম গত কয়েক বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। বীজ বপন থেকে উত্তোলন পর্যন্ত খরচ বেড়ে প্রতি বিঘায় প্রায় ৩৫ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। কিন্তু মিলাররা প্রতি মন তুলা মাত্র ৩ হাজার ৮৪০ টাকায় কেনাচ্ছেন। দাম বৃদ্ধির দাবি করছি।”
অপর তুলা চাষী নাহারুল ইসলাম বলেন, “তুলা একটি দীর্ঘমেয়াদি ফসল, ফলন পেতে লাগে ৭-৮ মাস। এবছর বিঘাপ্রতি ১৫-১৬ মণ তুলা হওয়ার সম্ভাবনা আছে। তবে দাম ঠিক না থাকায় আমরা ক্ষুব্ধ।”
আলমদিনা জিনিং মিলের কর্মকর্তা মো. ইমন হাসান জানান, কুষ্টিয়া ও দৌলতপুর অঞ্চলের তুলার আঁশের মান ভালো হওয়ায় এর চাহিদা বেশি। আন্তর্জাতিক বাজারের দর অনুযায়ী প্রতি কেজি তুলার দাম নির্ধারণ করা হয়। এ বছর প্রতি কেজি তুলার দাম ৯৬ টাকা অর্থাৎ প্রতি মন তুলা ৩ হাজার ৮৪০ টাকায় কেনা হচ্ছে।
কুষ্টিয়া জেলার প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা কৃষিবিদ শেখ আল মামুন জানান, জেলায় দৌলতপুর, মিরপুর ও ভেড়ামারায় তুলার চাষ হয়। চলতি মৌসুমে ২ হাজার ৪৩৪ হেক্টর জমিতে তুলা চাষ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি। তিনি আরও জানান, চাষীদের প্রশিক্ষণ, বীজ নির্ধারণ, রোগমুক্ত রাখার পরামর্শ এবং প্রণোদনা প্রদান করা হচ্ছে। ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত হলে তুলাচাষে আরও আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে এবং চাহিদা নির্ভর তুলা উৎপাদন বেড়ে দেশের সমৃদ্ধ কৃষি অর্জন সম্ভব হবে।

