ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় মাত্র ৪ বছর বয়সী শিশু তাবাসসুম খাতুনকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত আবু তাহের (৪৫) কে শুক্রবার সকালে কুষ্টিয়া থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর তাকে ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রশি, বস্তা ও অন্যান্য আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহত তাবাসসুম মহেশপুর উপজেলার ভৈরবা এলাকার নজরুল ইসলামের মেয়ে। জীবিকার তাগিদে তার পরিবার কালীগঞ্জের বারবাজারের বাদেডিহি গ্রামে ভাড়া বাসায় থাকত। গত বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বাড়ির আঙিনায় খেলতে খেলতে হঠাৎ নিখোঁজ হয় শিশুটি। স্বজনরা সারাদিন হন্যে হয়ে খুঁজেও কোনো সন্ধান পাননি। গ্রামে মাইকিং করা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিসহ খোঁজার আবেদন জানানো হয়।
নিখোঁজের একদিন পর বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার বাদুরগাছা গ্রামের আব্দুল জব্বার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত সেপটিক ট্যাংক থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় শিশুটির নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। হাত-পা রশি দিয়ে বাঁধা ছিল। শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ও ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। পুলিশের ধারণা, শিশুটিকে পাশবিক নির্যাতনের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় এবং দেহটি সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেওয়া হয়। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ঘাতক আবু তাহের হত্যাকাণ্ডের পর কুষ্টিয়ায় আত্মগোপন করেছিল। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের চৌকস টিম তাকে শুক্রবার সকালে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আবু তাহের তার জঘন্য অপরাধ স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছেন কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন। তিনি বলেন, “আমরা শুরু থেকেই ছায়াতদন্ত চালিয়েছি। গ্রেপ্তারের পর অভিযান চালিয়ে হত্যায় ব্যবহৃত সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।”
এদিকে খবর ছড়িয়ে পড়লে শুক্রবার জুমার নামাজের পর কালীগঞ্জ শহরে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। সাধারণ মানুষ, বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীসহ হাজারো মানুষ রাজপথে নেমে আসেন। বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও সমাবেশে ঘাতকের দ্রুত বিচার এবং প্রকাশ্য ফাঁসির দাবি উঠে। এক প্রতিবেশী অশ্রুসিক্ত চোখে বলেন, “আমরা কি এমন সমাজ চেয়েছিলাম যেখানে ৪ বছরের শিশুও নিরাপদ নয়? এই পশুর সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।”
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোক ও ক্ষোভের ছায়া নেমে এসেছে।

