খুলনা প্রতিনিধি
রমজানের ১০ দিন পার হলেও খুলনা নগরীতে এখনো ঈদবাজারে তেমন গতি আসেনি। বিশেষ করে দর্জিপাড়ায় দেখা যাচ্ছে অর্ডার সংকট। বিগত বছরগুলোতে এ সময় টেইলার্সে অর্ডারের চাপ থাকলেও এবারের দৃশ্য ভিন্ন। তৈরি পোশাকের দাপটে সিট কাপড় ও টেইলার্স ব্যবসা পড়েছে চাপে।
বৃহস্পতিবার নগরীর বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে ব্যবসায়ী ও কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঈদ সামনে রেখে বাজারে কিছুটা ক্রেতা উপস্থিতি থাকলেও বিক্রি আশানুরূপ নয়।
ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে তৈরি পোশাক তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাওয়ায় অনেক ক্রেতা সেলাইয়ের ঝামেলা এড়িয়ে রেডিমেট পোশাকের দিকে ঝুঁকছেন। ফলে টেইলার্স ব্যবসায় মন্দা দেখা দিয়েছে।
একজন টেইলার্স ম্যানেজার জানান, ঈদের অর্ডার শুরু হলেও প্রত্যাশিত চাপ এখনো নেই। আগের বছরগুলোতে রমজানের মাঝামাঝি সময়ে অর্ডার নেওয়া বন্ধ হয়ে যেত, কিন্তু এবার এখনো সে পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। মাস শেষে চাকরিজীবীরা বেতন ও ঈদ বোনাস পেলে অর্ডার বাড়বে বলে আশা করছেন তারা।
টেইলার্স মালিকদের ভাষ্য, শার্ট ও প্যান্টের সেলাই মজুরি দীর্ঘদিন একই থাকলেও কাপড়ের দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই তৈরি পোশাক কিনতে আগ্রহী হচ্ছেন।
অন্যদিকে কাপড়ের দোকানগুলোতে মিশ্র চিত্র দেখা গেছে। পাঞ্জাবির কাপড়ের কিছু চাহিদা থাকলেও অধিকাংশ ক্রেতা এখনো কেনাকাটায় আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। অনেকেই বাজার ঘুরে দেখছেন, তবে মাস শেষে বেতন-বোনাস পাওয়ার পর কেনাকাটা করবেন বলে জানিয়েছেন।
ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, সরকারি ও বেসরকারি চাকরিজীবীরা বেতন-বোনাস হাতে পেলেই খুলনার ঈদবাজারে প্রাণ ফিরবে। তবে রমজানের প্রথম ভাগে টেইলার্সে অর্ডার সংকটই এখন বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

