যশোর প্রতিনিধি
যশোরে কয়লা আমদানির জন্য এলসি (লেটার অব ক্রেডিট) খুলে দেওয়ার নামে প্রায় ১০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ফারজানা ইয়াসমিন নিলা নামে এক নারীর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন কয়েকজন ব্যবসায়ী। তারা অর্থ ফেরত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। বর্তমানে অভিযুক্ত নিলা যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক রয়েছেন বলে জানা গেছে।
শনিবার সকাল ১১টায় প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মেসার্স এ টু জেড ট্রেডিং-এর স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ আনিসুর রহমান খান।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে ব্যবসায়িক অচলাবস্থার সুযোগ নিয়ে নিলা ইন্দোনেশিয়া থেকে কয়লা আমদানির জন্য ব্রড কান্ট্রি এলসি ওপেন করে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। পরবর্তীতে যশোরের ৯ জন ব্যবসায়ী একত্র হয়ে এলসি খোলার সিদ্ধান্ত নেন। ৩০ শতাংশ মার্জিনের শর্তে আনিসুর রহমান ৯ ব্যবসায়ীর পক্ষে নিলার অ্যাকাউন্টে ১০ কোটি ৯ লাখ ১২ হাজার ৫০০ টাকা প্রদান করেন। কিন্তু টাকা নেওয়ার পর নিলা সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ইন্দোনেশিয়ায় জাহাজ প্রস্তুত হওয়ার পর এলসির জন্য চাপ দিলে নিলা একটি ভুয়া এলসি কপি দেন। পরে টাকা ফেরত চাইলে ৫০ লাখ টাকার একটি জাল বিএফটিএন (BFTN) কপি ও একটি ভুয়া এফডিআর (FDR) কপি সরবরাহ করে প্রতারণা অব্যাহত রাখেন।
আনিসুর রহমানের দাবি, ফারজানা ইয়াসমিন নিলা নিজেকে সাবেক প্রভাবশালী নেতা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, বাহাউদ্দিন নাছিম ও সালমান এফ রহমান-এর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচয় দিতেন। এমনকি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস-এর নামও ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার বিরুদ্ধে অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা, মানব পাচার ও নথি জালিয়াতির অভিযোগও তোলেন ভুক্তভোগীরা।
প্রতারিত হওয়ার পর আনিসুর রহমান প্রথমে গুলশান থানায় মামলা করেন। এতে নিলা গ্রেপ্তার হলেও পরে আদালত থেকে জামিন পান। অভিযোগ রয়েছে, জামিনের শর্ত অনুযায়ী টাকা পরিশোধ না করে তিনি হাইকোর্ট থেকে স্থগিতাদেশ নেন। পরবর্তীতে নতুন মামলা দায়েরের পর পুলিশ তাকে ঢাকা থেকে পুনরায় গ্রেপ্তার করে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত যশোর ও অভয়নগরের ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা জানান, ব্যাংক ঋণ নিয়ে এলসির টাকা পরিশোধ করায় তারা এখন আর্থিকভাবে চরম সংকটে পড়েছেন। অনেক পরিবার দেউলিয়া হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
তারা প্রশাসনের কাছে অভিযুক্তকে জামিন না দিয়ে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান এবং দ্রুত পাওনা টাকা উদ্ধারের ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ী নুর আলম বাবু, মাহমুদ হাসান লিপু, মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, জিয়া বিশ্বাস ও মোহাম্মদ নুরুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে ফারজানা ইয়াসমিন নিলার মেয়ে নন্দিতা মেহজাবিন বলেন, ব্যবসায়ীরা অনৈতিকভাবে তাদের বিরুদ্ধে প্রচার চালাচ্ছেন। অর্থ লেনদেনের বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না।

