স্টাফ রিপোর্টার, নড়াইল
নড়াইল সদর উপজেলার বড়কোলা গ্রামে সামাজিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চারজন নিহতের ঘটনায় অবশেষে দু’পক্ষের পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের হয়েছে। এ ঘটনায় এ পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিহত ওসিবুর রহমান ফকিরের বাবা উসমান ফকির প্রতিপক্ষ খলিল শেখ সমর্থিত ৫৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১০–১৫ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তবে এ মামলায় এখনো কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।
এর আগে ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে খলিল শেখ, তাহাজ্জত শেখ ও ফেরদৌস শেখ হত্যার অভিযোগে খলিল শেখের ছেলে রুবেল শেখ প্রতিপক্ষ সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান খায়রুজ্জামান খায়ের মোল্লাকে প্রধান আসামি করে ৬৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৪০–৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এ মামলায় এক ইউপি সদস্যসহ মোট ১২ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—বিল্লাল শেখ (৫০), লিটন শেখ (৩২), শাকিল শেখ (২৭), ইউপি সদস্য মুশফিকুর রহমান (৫০), অলীপ সরকার (৩৫), অচিন্ত টিকাদার (৫৫), ছদর মোল্লা (৩৬), সূর্য শিকদার লাজুক (৩২), জসিম মোল্লা (৩৬), রনি শিকদার (২৯), হালিম ফকির (৬০) ও তুফান মোল্লা (৩০)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিংগাশোলপুর ইউনিয়নর সাবেক চেয়ারম্যান খায়রুজ্জামান খায়ের মোল্লার সমর্থকদের সঙ্গে একই গ্রামের খলিল শেখের দীর্ঘদিনের সামাজিক বিরোধ ছিল। এর জেরে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সকালে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বড়কোলা এলাকায় উভয় পক্ষের মধ্যে ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে খলিল শেখ, তাহাজ্জত শেখ ও ফেরদৌস শেখ নিহত হন। অপরদিকে খায়ের মোল্লার পক্ষের ওসিবুর রহমান ফকিরকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হলে তাকে উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নড়াইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ওলি মিয়া রোববার (১ মার্চ) সকালে জানান, চারটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দু’পক্ষের মামলা হয়েছে এবং এজাহারভুক্ত ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

