টুঙ্গিপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি
১ লাখ ১৪ হাজার ৪৮২ মানুষের চিকিৎসার একমাত্র ভরসাস্থল গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া ১০০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত হলেও বাড়েনি প্রয়োজনীয় চিকিৎসকের সংখ্যা। এর মধ্যে কর্মরত ৫ জন জুনিয়র কনসালটেন্টের অনিয়মিত উপস্থিতির অভিযোগ উঠেছে। ফলে টুঙ্গিপাড়া ছাড়াও আশপাশের কয়েকটি উপজেলার রোগীরা কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
রোগীদের অভিযোগ, হাসপাতালে কর্মরত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা নিয়মিত রোগী দেখেন না। নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে আসেন, আবার অনেক সময় কক্ষ তালাবদ্ধ থাকে। নির্দিষ্ট কিছু ডায়াগনস্টিক সেন্টারের রিপোর্ট ছাড়া রোগী দেখেন না বলেও অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি রোগীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের কথাও জানান ভুক্তভোগীরা।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকাল ১১টা ১০ মিনিটে অর্থোপেডিক চিকিৎসক (জুনিয়র কনসালটেন্ট) ডা. কাজী করিম নেওয়াজকে ২০৭ নম্বর কক্ষে প্রবেশ করতে দেখা যায়। সকাল ১১টা ২০ মিনিটে শিশু কনসালটেন্ট ডা. আমামা আক্তারের ২০৬ নম্বর কক্ষ তালাবদ্ধ ছিল। মোবাইলে যোগাযোগের পর তিনি সকাল ১১টা ৫০ মিনিটে হাসপাতালে আসেন।
গাইনি কনসালটেন্ট ডা. শিপ্রা নন্দী সপ্তাহে মাত্র দুই দিন হাসপাতালে আসেন বলে জানা গেছে। চক্ষু কনসালটেন্ট ডা. আবির মল্লিককে সেদিন হাসপাতালে পাওয়া যায়নি। জুনিয়র কনসালটেন্ট (অ্যানেস্থেসিয়া) ডা. মো. শাহজাহানের পোস্টিং টুঙ্গিপাড়ায় হলেও তিনি অধিকাংশ সময় মুকসুদপুরে অবস্থান করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ১০ জন কনসালটেন্ট ও ১১ জন জুনিয়র কনসালটেন্টসহ মোট ২১টি পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৫ জন জুনিয়র কনসালটেন্ট।
টুঙ্গিপাড়ার পাটগাতী গ্রামের রানা শেখ বলেন, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে এসে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও অর্থোপেডিক চিকিৎসকের দেখা পাননি। পরে গোপালগঞ্জে গিয়ে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। এতে সময় ও অর্থ—দুটোরই অপচয় হয়েছে।
বাগেরহাটের চিতলমারী ও পিরোজপুরের নাজিরপুর থেকে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগী বলেন, হাসপাতালটি তাদের জন্য নিকটবর্তী হলেও চিকিৎসকের স্বল্পতা ও অনিয়মিত উপস্থিতির কারণে তারা যথাযথ সেবা পান না।
অর্থোপেডিক চিকিৎসক ডা. কাজী করিম নেওয়াজ বলেন, “যোগদানের এক মাসও হয়নি। বেতন-ভাতা সংক্রান্ত কাজে দৌড়ঝাঁপ করতে গিয়ে আসতে একটু দেরি হয়েছে।”
শিশু কনসালটেন্ট ডা. আমামা আক্তার বলেন, “শারীরিক অসুস্থতার কারণে আসতে দেরি হয়েছে।”
অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তানভীর আহমেদ বলেন, অর্থোপেডিক চিকিৎসকের বাসা দূরে হওয়ায় দেরি হয়েছে। শিশু ও চক্ষু চিকিৎসক ছুটির আবেদন করেছেন, তবে লিখিত কপি তাৎক্ষণিকভাবে দেখাতে পারেননি। অ্যানেস্থেসিয়া কনসালটেন্টের বিষয়ে তিনি জানান, আগের সিভিল সার্জনের নির্দেশে তিনি মুকসুদপুরে অবস্থান করছেন।
তিনি আরও বলেন, অনিয়মিত চিকিৎসকদের সতর্ক করা হয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত চিকিৎসক সংকট নিরসন ও নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করে হাসপাতালে মানসম্মত চিকিৎসা সেবা চালু করা হোক।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.