
আবু সাঈদ দেওয়ান সৌরভ, মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
মুন্সীগঞ্জে একটি স্থানীয় বাজারের ইজারা নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের দ্বন্দ্বে সাড়ে ছয় লাখ টাকার বাজার ৫২ লাখ লাখ টাকায় ইজারা হয়েছে। যা সরকারি ভ্যাট ট্যাক্সসহ প্রায় ৭০ লাখ টাকা। অথচ গত অর্থ বছর একই বাজারের ইজারা মূল্য ছিলো সাড়ে ছয় লাখ টাকা। দলীয় কোন্দলের কারণে স্থানীয় কৃষক ও বাজারের ব্যবসায়ীদের উপর করের বোঝা বাড়বে এবং সেই বাড়তি টাকার চাপের সরাসরি প্রভাব পড়বে বাজারের ক্রেতা ও বিক্রেতাদের উপর।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ধলাগাও বাজারটি মূলত কাঁচা সবজির একটি খুচরা ও আড়ৎদারি নির্ভর বাজার। এ বাজারে স্থানীয় কৃষকদের নিজস্ব উৎপাদিত কাঁচা সবজি পাইকারি ও খুচরা বিক্রি করেন। এখান থেকে হাত ঘুরে স্থানীয় বাজার গুলোতে সবজির চাহিদা মিটিয়ে ঢাকার বিভিন্ন পাইকারি আড়ৎ গুলোতে যায়। এ বাজারের কৃষক ও ব্যবসায়ীদের উপর করের বোঝা বাড়লে এ চাপ সরাসরি বাজারের ক্রেতা ও বিক্রেতার উপর পড়বে। যা স্থানীয় কাঁচা সবজির বাজার অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে।
স্থানীয় ও উপজেলা প্রশাসনের তথ্য সুত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুরে সদর উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার ধলাগাও বাজারের টেন্ডার জমা নিয়ে বিএনপি দুই গ্রুপ
ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মো. সালাউদ্দিন টুটুল পক্ষের লোকজন টেন্ডার জমা দিতে যায়। এসময় রোমান দেওয়ান পক্ষের বাবু নামের একজন বাজারের জন্য টেন্ডার জমা দিচ্ছে বলে তাদের টেন্ডার জমাদানে বাঁধা দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে টুটুল পক্ষের লোকজন তাকে মারধর শুরু করলে দুই গ্রুপ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরে কমপ্লেক্সের বাইরে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও মারামারি হয় ঘটনা ঘটে। এসময় অমিত হাসান (২২) নামে একজন আহত হয়।
পরে, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী আবদুল আহাদ দেওয়ান প্রায় ৫২ লক্ষ টাকায় ধলাগাও বাজারের ইজারা পান। যা প্রায় সরকারি ভ্যাট যুক্ত হয়ে ৭২ লক্ষ টাকায় পরিশোধ করতে হবে।
ধলাগাও বাজারের একজন ব্যবসায়ী জানান, স্থানীয় নেতাদের নিজেদের আধিপত্যের দ্বন্দ্বে আমাদের ব্যবসায়ীদের জীবন শেষ। এই ছোট একটি বাজারের এতো বিশাল ইজারার কারণে ব্যবসায়ীদের চাপ বাড়বে।
বাজারের কাঁচা সবজি বিক্রেতা একজন কৃষক জানান, বাজারের ইজারাদার টাকা তোলার জন্য আমাদের দৈনিক টাকার হার কয়েকগুন বেড়ে যাবে। নেতাদের দলাদলিতে আমাদের মতো সাধারণ ব্যবসায়ীদের জীবন শেষ হবে।
সচেতন নাগরিক কমিটির একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, স্থানীয় বাজার গুলো বেশিরভাগই ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা প্রতিযোগিতা করে ইজারা নেয়। ইজারা যাই হউক, পরে ইজারাদাররা সরকারি নিয়ম ভঙ্গ করে নিজেদের ইচ্ছে মতো টাকা আদায় করে। এই অতিরিক্ত টাকার চাপ পড়ে বাজারের ক্রেতা ও বিক্রেতাদের উপর। আর্থিক চাপ বাড়ে সাধারণ মানুষের উপর। প্রশাসনের উচিৎ ইজারার পরে সারা বছর বাজার ব্যবস্থাপনা তদারকির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা। যাতে করে দলীয় কোন্দলের চাপ যেন, সাধারণ ক্রেতা, কৃষক ও ব্যবসায়ীদের আর্থিক চাপ না পড়ে।
এ বিষয়ে ইজারা প্রাপ্ত আবদুল আহাদ দেওয়ান ওরফে রোমান বলেন, আমি ৫২ লাখ টাকায় ইজারা পেয়েছি। আমার নিকটতম ৪৬ লাখ টাকা। সে বিগত ইজারা পেয়েছিল সাড়ে ৬ লাখ টাকা। তারা আজগর আলী মেম্বার আওয়ামী লীগ করেছে। ওয়ার্ডের সভাপতি। বিগত কয়েক বছর ইজারা ডেকেছে। আমাদের ডাকতে দেয়নি। আমার আরত ছিল বিএনপি করে বলে কোণঠাসা করে রাখছে, ডাকতে দেয়নি। কয়েক দিন আগে মেম্বার আওয়ামী লীগের লোকজন ও বিএনপির কয়েকজন মিলে বাজারের ইজারা নিব আমরা জানতে পারি তাই আমরা সর্বোচ্চ ডাক ফেলাই। জানি লস খাব। তারপরও আওয়ামী লীগের কাউরে বাজারে ঢুকতে দেবো না।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো মাসুদুর রহমান জানান, সরকারি নিয়মের বাইরে ইচ্ছে মতো টাকা আদায়ের কোন সুযোগ নেই। যদি কেউ ইজারারা শর্ত ভঙ্গ করে তাহলে বাজারের ইজারা বাতিল করা হবে।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের দাবি, দলীয় কোন্দল কিংবা ইজারাদারদের অসুস্থ প্রতিযোগিতার কারণে অতিরিক্ত টাকার খড়গ যেন ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের উপর না পড়ে। ইজারা প্রদানের মাধ্যমেই যেন প্রশাসনের কর্তব্য সীমাবদ্ধ না থাকে। সারাবছর ইজারাদারদের বাজার ব্যবস্থাপনার উপর নজরদারি প্রয়োজন। প্রশাসনের সঠিক নজরদারির থাকলে ধীরে ধীরে অসুস্থ ইজারা প্রতিযোগিতা বন্ধ হবে। সরকার ও প্রশাসন সঠিক তদারকি ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহন করবে এমনটাই প্রত্যাশা।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.