স্টাফ রিপোর্টার, নড়াইল
প্রকৃতিতে বইছে এখন বসন্তের হাওয়া। সূর্যের দিকে তাকিয়ে থাকে সূর্যমুখী ফুল। সকাল বেলা পূর্বদিকে তাকিয়ে থাকলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে সূর্যের সঙ্গে ঘুরতে থাকে। সবুজের মাঝে চোখ জুড়ানো হলুদ রঙের ঝলকানি দেখে যে কারোই মন জুড়িয়ে যায়। যেদিকে চোখ যায়,সেদিকেই হাসছে সূর্যমুখী। এক সময় যা ছিল শুধু শৌখিন বাগান কিংবা বাড়ির আঙিনার শোভাবর্ধক ফুল,আজ তা নড়াইলের কৃষকদের কাছে হয়ে উঠেছে এক অর্থকরী ফসল।
ভোজ্যতেলের উত্তরোত্তর মূল্যবৃদ্ধির এই সময়ে কম খরচে অধিক মুনাফার আশায় নড়াইল সদর উপজেলার কৃষকরা ব্যাপক ভাবে ঝুঁকছেন সূর্যমুখী চাষে। সরিষার চেয়ে দ্বিগুণ লাভের সম্ভাবনা আর প্রকৃতির অপরূপ ছোঁয়ায় নড়াইলের কৃষি অর্থনীতিতে সূচিত হয়েছে এক নতুন দিগন্ত।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী,নড়াইল সদর উপজেলায় সূর্যমুখী চাষে রীতিমতো বিপ্লব ঘটছে। গত বছর যেখানে আবাদ ছিল মাত্র ৫৫ হেক্টর,সেখানে চলতি মৌসুমে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৮ হেক্টরে। তবে মাটি ও আবহাওয়ায় অনুকূলে থাকায় এ মৌসুমে বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছেন সূর্যমুখী চাষিরা
বুধবার(৪মার্চ) সকালে সদর উপজেলার তুলারামপুর ইউনিয়নের চাঁচড়া মাঠের আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখা গেছে,হলুদ আর সবুজের মিতালী ফুলে ফুলে ভরে উঠেছে মাঠ। বাগানে উড়ছে মৌমাছি আর নানান রকম পাখি। মৌমাছিরা সূর্যমুখী ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করতে ব্যস্ত। চোখ ও মন জুড়িয়ে যাওয়ার মতো এক অপরূপ দৃশ্য। এমন মুগ্ধতা ছড়ানো দৃশ্য দেখে কৃষকের চোখে মুখে ফুটে উঠেছে হাসির ঝিলিক।
চাঁচড়া গ্রামের সূর্যমুখী চাষী আনোয়ার হোসেন বলেন, তিনি গত বছর সূর্যমুখী চাষ করে অন্যান্য ফসলের তুলনায় কয়েকগুণ লাভ বেশি হওয়ায় চলতি মৌসুমে বাণিজ্যিকভাবে তিন একর জমিতে সূর্যমুখী চাষ করছেন। এবার আরও বেশি লাভবান হবেন বলে প্রত্যাশা তার। তেলের দাম বৃদ্ধিতে ভোজ্য তেলের চাহিদাও পূরণ করবে সূর্যমুখীর তেল। তাই কম খরচে ভালো ফলন হওয়ায় দিন দিন সূর্যমুখী চাষে ব্যাপক আগ্রহ বাড়ছে এ এলাকার কৃষকদের।
কৃষক ফরিদ ভূইয়া বলেন,ধান বা পাটে অনেক পানি আর সার লাগে, খরচ পোষাতে হিমশিম খাই। কিন্তু সূর্যমুখীতে পানি কম লাগে,পোকাও কম ধরে। গত বছর আমি অল্প জমিতে চাষ করে বেশ ভালো ফলন ও দাম পেয়েছিলাম। সেই সাহস থেকেই এবছর দুই একর জমিতে চাষ করেছি। এটি অত্যন্ত লাভজনক ফসল। সঠিক সময়ে সারিবধভাবে বীজ রোপণ ও সামান্য পরিচর্যা করলেই ফলন ভালো হয়। তবে মাঠের অবস্থা দেখে বুক ভরে যাচ্ছে।
নড়াইল সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান বলেন,বারি সূর্যমুখী-৩ এবং হাইসান-৩৬ এই জাতের সূর্যমুখী বেশি চাষ হয়েছে। তবে আমরা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দিচ্ছি। সূর্যমুখী চাষে যেমন উৎপাদন খরচ কম,তেমনি এর তেলের পুষ্টিগুণ সাধারণ তেলের চেয়ে অনেক বেশি। হৃদরোগীদের জন্য এই তেল অত্যন্ত উপকারী।
চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়া থাকলে ফলন আশাতীত হবে। কৃষকদের সাফল্য দেখে ভবিষ্যতে জেলার আরও বহু প্রান্তিক কৃষক এই ফসল চাষে উদ্বুদ্ধ হবেন।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.