নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায় মাতৃত্বকালীন ভাতা কর্মসূচিতে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তালিকায় নাম থাকলেও গত দুই বছর ধরে সরকারি ভাতা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন এক ভাতাভোগী। তার নামে খোলা ব্যাংক হিসাবে টাকা জমা না হয়ে অন্য এক নারীর হিসাবে জমা ও উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে।
উপজেলার ৪ নম্বর চণ্ডীপাশা ইউনিয়নের ধুরুয়া গ্রামের শফিকুল ইসলামের স্ত্রী মোছা. সালমা আক্তার ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে মাতৃত্বকালীন ভাতাভোগী হিসেবে অনুমোদন পান। ভাতার অর্থ উত্তোলনের জন্য তার নামে ব্যাংক এশিয়া লিমিটেডের এজেন্ট ব্যাংকিং শাখায় একটি হিসাব খোলা হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, ওই হিসাবে কোনো টাকা জমা হয়নি।
সালমা আক্তারের স্বামী শফিকুল ইসলাম জানান, হিসাব খোলার পরও গত দুই বছরে তার স্ত্রী কোনো ভাতা পাননি। বিষয়টি জানতে তিনি একাধিকবার ইউপি উদ্যোক্তা মো. শরীফের কাছে গেলে তিনি ‘সার্ভার সমস্যাসহ’ বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করেন।
পরে বিষয়টি সাংবাদিকদের জানানো হলে গত রোববার (১ মার্চ) নান্দাইলের বাঁশহাটি বাজারে উদ্যোক্তা শরীফের সঙ্গে কথা বলা হয়। এ সময় তিনি দাবি করেন, ব্যাংক হিসাব নম্বরটি ভুল হয়েছে এবং তা সংশোধনের চেষ্টা চলছে।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী সালমা আক্তারের ব্যাংক হিসাব নম্বরটি উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রাশেদা রহমানের কাছে যাচাইয়ের জন্য দেওয়া হলে তিনি জানান, ওই হিসাবটি সালমা আক্তারের নামে নয়। বরং নান্দাইল উপজেলার ঘোষপালা গ্রামের আশরাফুল ইসলামের স্ত্রী শিরীনা আক্তারের নামে খোলা হয়েছে। অথচ শিরীনা আক্তার মাতৃত্বকালীন ভাতার অনুমোদিত ভাতাভোগী নন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চণ্ডীপাশা ইউনিয়নে মোট ১০১ জন মাতৃত্বকালীন ভাতাভোগীর তালিকা রয়েছে। তালিকায় ঘোষপালা ও বাঁশহাটি গ্রামের দুই শিরীনা আক্তারের নাম থাকলেও অনুমোদিত ভাতাভোগী হচ্ছেন বাঁশহাটি গ্রামের শিরীনা। তবে তিনিও ভাতা পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন।
অন্যদিকে ঘোষপালা গ্রামের শিরীনা ভাতাভোগী না হলেও তার নামে খোলা ব্যাংক হিসাবে নিয়মিত ভাতার অর্থ জমা হয়েছে এবং সেখান থেকে টাকা উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে।
ঘোষপালা গ্রামে গিয়ে শিরীনাকে পাওয়া যায়নি। তার পরিবারের সদস্যরা জানান, তিনি ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তার স্বামী আশরাফুল ইসলাম বলেন, তার স্ত্রী ভাতার জন্য আবেদন করেছিলেন, তবে তালিকাভুক্ত হননি।
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাস বাদে প্রতি মাসে ৮০০ টাকা করে ওই হিসাব নম্বরে জমা হয়েছে। গত দুই বছরে নিয়মিত ওই অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। তবে কারা টাকা তুলেছেন তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রাশেদা রহমান বলেন, “সালমা আক্তার আমাদের তালিকাভুক্ত অনুমোদিত ভাতাভোগী। ব্যাংক হিসাব খোলা ও লেনদেনের বিষয়টি ব্যাংকের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। এখানে আমাদের সরাসরি ভূমিকা নেই। সালমা যদি ভাতা না পেয়ে থাকেন, তাহলে তিনি লিখিত অভিযোগ দিতে পারেন।
এদিকে ইউপি উদ্যোক্তা শরীফের বিরুদ্ধে ওঠা কারসাজির অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, বিষয়টি এর আগেও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে অবহিত করা হয়েছিল।

